৪ ঘণ্টায় কী ৮ ঘণ্টার ঘুম পূরণ করা সম্ভব? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অনলাইন ডেস্ক: কর্মব্যস্ত আধুনিক জীবনে প্রতিদিন পর্যাপ্ত আট ঘণ্টা ঘুমানোর সময় বের করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় বিকল্প সমাধান হিসেবে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে ‘পলিস্নপ স্লিপ’ বা বহুভাগ ঘুম পদ্ধতি; যেখানে দাবি করা হয় যে সারা দিনে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমিয়ে রাতের আট ঘণ্টার সমান সতেজতা ও শারীরিক শক্তি অর্জন করা সম্ভব। ব্যস্ত পেশাজীবী, গবেষক ও অভিযাত্রীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করা এই ধারণার কার্যকারিতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত মানুষ রাতে একটানা সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘মনোফেজিক স্লিপ’ বলা হয়। অন্যদিকে পলিস্নপ স্লিপ পদ্ধতিতে রাতে একটানা দীর্ঘ সময় না ঘুমিয়ে পুরো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সময় ভাগ করে একাধিক দফায় ছোট ছোট বিরতিতে ঘুমানো হয়। এই ধারার মধ্যে বহুল পরিচিত ‘উবারম্যান শিডিউল’-এ প্রতি চার ঘণ্টা পর পর ২০ মিনিট করে দিনে মোট ছয়বার (সর্বমোট দুই ঘণ্টা) ঘুমানোর নিয়ম রয়েছে। এছাড়া ‘এভরিম্যান শিডিউল’-এ রাতে সাড়ে তিন ঘণ্টার মূল ঘুমের পাশাপাশি দিনে তিনবার ২০ মিনিট করে ন্যাপ নেওয়া হয়, যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় চার ঘণ্টায়।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমিয়ে আট ঘণ্টার পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক সুফল পাওয়ার ধারণাটি বৈজ্ঞানিকভাবে পুরোপুরি ভিত্তিহীন। মানব মস্তিষ্ক ও শরীরের অভ্যন্তরীণ কোষ মেরামতের জন্য একটি নির্দিষ্ট চক্র প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গভীর ঘুম (ডিপ স্লিপ) ও ‘রিম স্লিপ’। একটানা না ঘুমিয়ে বারবার অল্প সময়ের জন্য ঘুমালে শরীরের প্রাকৃতিক জৈবঘড়ি বা সার্কেডিয়ান রিদম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া এবং মনোযোগে তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য এই পদ্ধতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিশেষ প্রয়োজনে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার নাবিক, বিশেষ বাহিনীর সামরিক সদস্য কিংবা মহাকাশচারীরা কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সাময়িকভাবে এই স্লিপ সাইকেল অনুসরণ করে থাকেন। তবে কাজের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে স্বল্পমেয়াদে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ‘পাওয়ার ন্যাপ’ কার্যকর হলেও তা কখনোই রাতের আট ঘণ্টার স্বাভাবিক ঘুমের বিকল্প হতে পারে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে রাতে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন গভীর ঘুম নিশ্চিত করার ওপরই চিকিৎসকেরা সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।
জেএ/অভি