জাবি প্রতিনিধি: এক বছরের মেয়াদ শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নতুন পাঁচ উদ্যোগ উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের আধুনিকায়ন, ২১টি আবাসিক হলে কম্পিউটার ও পানির ফিল্টার বিতরণ, শিক্ষার্থীদের টিউশন খোঁজার প্ল্যাটফর্ম ‘জাকসু টিউটর হাব’, কেনাবেচার ওয়েবসাইট ‘Kenabecha JU’ এবং শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে দুপুরের পর জাকসু প্রাঙ্গণে এসব উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়
জাকসুর নেতৃবৃন্দের দাবি, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান, আয় ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সুযোগ তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেবা কার্যকর করার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাকসুর অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ওয়ার্ড ও বেড সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পুরোনো বেড সরিয়ে নতুন বেড স্থাপন করা হয়েছে। ইমার্জেন্সি ও ওয়ার্ডে এসি স্থাপনের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব উন্নয়নকাজে মোট ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে কম্পিউটার ও আধুনিক পানির ফিল্টার বিতরণ করা হয়েছে। একাডেমিক ও দৈনন্দিন কাজে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি এবং নিরাপদ পানির সুবিধা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে জাকসু।
শিক্ষার্থীদের টিউশন পাওয়ার সুযোগ সহজ করতে তৈরি করা হয়েছে ‘জাকসু টিউটর হাব’ ওয়েবসাইট। পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী টিউশনের মাধ্যমে আয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও টিউশন খোঁজার জন্য তাদের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর নির্ভর করতে হয়। নিজস্ব একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ সুযোগ সহজ করতেই ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও ব্যবহৃত পণ্য কেনাবেচার সুযোগ তৈরি করতে ‘Kenabecha JU’ নামে আরেকটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পণ্য ও ব্যবসার পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যাম্পাসের মধ্যে ব্যবহৃত জিনিসপত্র কেনাবেচার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে জাকসু।
শেষ সময়ের আরেকটি আলোচিত উদ্যোগ শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট। শিক্ষকদের পাঠদান, আচরণ, সময়ানুবর্তিতা ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়েছে। তবে ওয়েবসাইটটি এখনো শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এটি হস্তান্তর করা হবে।
জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর দাবি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ একাডেমিক কাউন্সিল বিষয়টি গ্রহণ করলেও তা এখনো কমিটির পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জাকসু নিজেদের উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “আমরা দেখিয়ে যেতে চাই, সদিচ্ছা থাকলে শিক্ষক মূল্যায়নের মতো একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কমিটি ওয়েবসাইটটি পর্যালোচনা করে তাদের প্রস্তাবনায় বিষয়টি বিবেচনা করবে।”
জাকসুর তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইটে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষার্থীরা অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থী শুধু নিজের বিভাগের এবং যে শিক্ষকের কোর্স করেছেন, সেই শিক্ষককে মূল্যায়ন করতে পারবেন। ফলে বিভাগের বাইরের কোনো শিক্ষক কিংবা যে শিক্ষকের কোর্স করা হয়নি, তাঁকে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে না।
ওয়েবসাইটটির ডেভেলপার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সালমান আহমেদ বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া অফিসিয়াল ই-মেইল ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী-দুই পক্ষের তথ্যের গোপনীয়তা এবং মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।”
তবে জাকসুর তৈরি ওয়েবসাইটকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে না প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নসহ জাকসুর কয়েকটি দাবির বিষয়ে কাজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর এখতিয়ার জাকসুর নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “জাকসুকে ধন্যবাদ জানাই, তারা একটি নমুনা তৈরি করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি এটি বিশ্লেষণ করে কীভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং এতে কোনো সংকট বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করতে পারবে। এ ধরনের একটি উদ্যোগ অবশ্যই মূল্য সংযোজন করবে।”
এক বছরের মেয়াদ শেষে জাকসুর এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা এখন নির্ভর করবে পরবর্তী বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর। বিশেষ করে শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইটটি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কমিটির পর্যালোচনার পর কীভাবে এবং আদৌ চালু হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি