আইআরজিসি'র আর্থিক লেনদেনের তথ্য দিলেই পুরস্কার: যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি (IRGC)-এর কথিত আর্থিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের Rewards for Justice কর্মসূচি জানিয়েছে, আইআরজিসি অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় গোপন প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে ডিজিটাল অ্যাসেট এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করে বলে মার্কিন সরকারের অভিযোগ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কর্মসূচিটি বলেছে, আইআরজিসির কথিত অবৈধ আর্থিক লেনদেন বন্ধে সহায়তা করতে তথ্য দিতে। এ জন্য আগে থেকেই সর্বোচ্চ ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে।

কোন তথ্য খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র?

Rewards for Justice-এর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসির আয়ের উৎস, আর্থিক সহায়তার বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য চায়।

এর মধ্যে রয়েছে—

* আইআরজিসির কথিত অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ড;
* তাদের হয়ে কাজ করা ফ্রন্ট বা আড়াল কোম্পানি;
* এক্সচেঞ্জ হাউস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান;
* নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান;
* আইআরজিসি ও এর বিভিন্ন শাখার অর্থের উৎস এবং আর্থিক সহযোগী নেটওয়ার্ক।

মার্কিন কর্মসূচিটি বিশেষভাবে এমন তথ্যের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা আইআরজিসির আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে বা এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করতে পারে।

কেন ডিজিটাল সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ?

ডিজিটাল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক লেনদেন আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের একটি বিকল্প অবকাঠামো তৈরি করেছে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান বা নেটওয়ার্ক প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে অর্থ স্থানান্তরের চেষ্টা করলে ডিজিটাল অ্যাসেট এক্সচেঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইআরজিসি যে নির্দিষ্টভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে ডিজিটাল অ্যাসেট এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেছে—এমন প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। বর্তমান আহ্বানটি মূলত মার্কিন সরকারের অভিযোগ এবং তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ।

আইআরজিসির আর্থিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্যের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার কর্মসূচিটি নতুন করে শুরু হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের Rewards for Justice কর্মসূচির সরকারি নথিতে আইআরজিসির আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে তথ্যের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ১৫ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কারের কথা রয়েছে।

২০১৯ সালে প্রথম এই পুরস্কার ঘোষণার তথ্যও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নথিতে রয়েছে।

আইআরজিসির আর্থিক নেটওয়ার্কে চাপ সৃষ্টি করা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক ও নিষেধাজ্ঞা নীতির অংশ। তেল বিক্রি, মধ্যস্থতাকারী কোম্পানি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং এখন ডিজিটাল সম্পদের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর—সব ক্ষেত্রেই ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

নতুন করে তথ্য আহ্বানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত জানতে চাইছে, আইআরজিসির অর্থ কোথা থেকে আসে, কীভাবে তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করে এবং কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেই প্রবাহে সহায়তা করে।

তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে ইরান বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাল্টা বক্তব্য এবং নির্দিষ্ট লেনদেনের স্বাধীন যাচাই আলাদা বিষয়। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ ও আর্থিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা করছে; ১৫ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার সেই দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির অংশ।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ