কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের শনির ঘোজা এলাকায় আপন ছোট বোনসহ চার শিশুকে ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ১৫ বছরের কিশোরের বিরুদ্ধে। এ সময় শিশুদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন এবং ঘটনার সত্যতা স্বীকার করার পর গ্রামবাসী অভিযুক্তকে মাথার চুল কেটে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে লতাচাপলী ইউনিয়নের ডংকুপাড়া শনির ঘোজা গ্রামে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, শহিদ হাওলাদার ও তার স্ত্রী তাদের আট বছরের মেয়েকে বাড়িতে রেখে কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে যান। শিশুটি এ সময় একই এলাকার ছয়, আট ও নয় বছর বয়সী তিন বান্ধবীকে সাথে নিয়ে ঘরে খেলাধুলা করছিল।
অভিযোগ ওঠে, এ সুযোগে শহিদ হাওলাদারের ছেলে অভিযুক্ত হাসান হাওলাদার (১৫) ঘরে প্রবেশ করে মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে নিজ বোনসহ চার শিশুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিবস্ত্র করে চৌকিতে উঠিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুদের আর্তচিৎকার শুনে পাশ্ববর্তী এক শিশুর বড় বোন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী হাসানকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। সেখানে সে ‘শয়তানে পাওয়ায় এমন কাজ করেছে’ বলে অপরাধ স্বীকার করে। এ সময় উপস্থিত জনতা তার মাথার চুল কেটে দেয় এবং পরিবারের সবাইকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার আলটিমেটাম দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, হাসানের ফুফা মো. কালাম বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা এড়াতে অভিযুক্তের পরিবার বসতবাড়িতে তালা দিয়ে গা-ঢাকা দেয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, মামলা দায়েরের পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। তবে আসামির পুরো পরিবার পলাতক রয়েছে।
ঘটনার ছয় দিন অতিবাহিত হলেও চার শিশু তীব্র মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সচেতন মহল দ্রুত তাদের চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সিলিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি নজরে আসার কথা নিশ্চিত করে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চার শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা এবং তাদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। —জা. অর্থনীতি/এলএটি