অটোরিকশা ছিনতাই করতে চালকদের হত্যা, সিরিয়াল কিলারসহ গ্রেপ্তার ৭
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে একাধিক চালককে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত ভাড়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে চালকদের হত্যা করার পর অটোরিকশা বিক্রি করে দিত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় চক্রের মূলহোতা 'সিরিয়াল কিলার' খ্যাত আবদুল ওয়াদুদ ওরফে মানিকসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও আসামিদের গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃত মূল অভিযুক্ত আবদুল ওয়াদুদ মানিক মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের গনিপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম ওরফে দুলালের ছেলে। মানিক ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত অপর ছয়জন হলেন- শাহেদ, ফাহিম, সেলিম, জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও গিয়াস উদ্দিন।

পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোটের আতিয়াবাড়ী এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহটি নিখোঁজ অটোরিকশাচালক মেহেদীর (১৮) বলে শনাক্ত হয়। মামলাটির তদন্তে নেমে প্রথমে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেহেদীকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং মূল অভিযুক্ত মানিক ও সেলিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তারের সময় মানিকের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা একটি মোবাইল ফোন অনুসন্ধানে জানা যায়, সেটি গত ২৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ অপর চালক আরমান হোসেনের। ওই ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ অটোরিকশার কেটে ফেলা বডি উদ্ধার করে এবং ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত জোবায়ের, নূর আলম ও গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। মানিক ও সেলিমকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা স্বীকার করে যে, আরমানকেও একইভাবে হত্যা করে লাশ মনোহরগঞ্জের বিনয়ঘর এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দিয়েছিল। পুলিশ ইতোমধ্যে সেখান থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করেছে, যা আরমানের কি না তা শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।

সহকারী পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, এর আগে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর শাহজাহান সাইমন (১৭) নামের আরও এক অটোরিকশাচালককে হত্যার ঘটনাতেও মানিকের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং সেই মামলাতেও সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে চালকদের লক্ষ্য করে মানিকের একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃত চক্রটির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সবকটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি