ইরাকের কুর্দিস্তান থেকেও সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকেও সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ায় ২০২৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কুর্দিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেবার আহমেদ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ইরাক থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কুর্দিস্তান থেকেও সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই সামরিক সদস্যদের অন্য দেশে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরাকের মূল ভূখণ্ডে থাকা অন্যান্য ঘাঁটি থেকে বিদেশি বাহিনী প্রত্যাহার করা হয়। উত্তরাঞ্চলের কুর্দিস্তানেই শুধু জোটের সামরিক উপস্থিতি অবশিষ্ট ছিল। এখন সেখান থেকেও সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও প্রত্যাহার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের উত্থান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক জোট গঠিত হয়। ইরাকে ২০১৭ সালে এবং সিরিয়ায় ২০১৯ সালে আইএসের নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটার পর জোটের সামরিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমানে আইএসের কিছু বিচ্ছিন্ন সদস্য সক্রিয় থাকলেও তাদের মোকাবিলায় ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী নিজস্ব সক্ষমতায় অভিযান পরিচালনা করছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছিল ইরানপন্থী আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহার নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জা.অর্থনীতি/এসআই