সবুজ পাতার আড়ালে যেন বঞ্চনার গল্প
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের চা-বাগানগুলোর চোখজুড়ানো সবুজের আড়ালে বছরের পর বছর ধরে চরম বঞ্চনা, ভূমির অনিশ্চয়তা ও সামাজিক অবহেলার শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার চা-শ্রমিক। দীর্ঘ দুই শতাব্দী ধরে ঐতিহ্য বহন করা এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ আজও মৌলিক অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থানের চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু সিলেট সদর, জৈন্তাপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলাতেই ২০ হাজারের বেশি চা-শ্রমিক রয়েছেন। বর্তমানে দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক। বৈষম্য দূর করতে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি, ২০২৩ সালের শ্রমিক স্বার্থবিরোধী গেজেট বাতিল, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন এবং ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করার চার দফা দাবিতে সিলেটে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকেরা।

দাবি আদায়ে ইতোমধ্যে সিলেট ভ্যালির মালনীছড়া, লাক্কাতুরা, বুরজান ও খাদিমসহ ২৩টি বাগানে নিয়মিত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক, শ্রম মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন তাঁরা। চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা ও পঞ্চায়েত প্রধানদের মতে, দাবি পূরণ না হলে স্থগিত থাকা কর্মসূচি পুনরায় কঠোর আকারে শুরু হবে।

অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, চা-শ্রমিকদের দাবিগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে। অপরদিকে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বাগানগুলোর সামগ্রিক পরিস্থিতি অনুসন্ধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হবে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি