আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হড়পা বানের ভয়াবহ বিপর্যয়ের ১১ দিন পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি নেপাল। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ। এরই মধ্যে ত্রাণশিবিরে শিশু, প্রসূতি ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের দুর্ভোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম কাঠমান্ডুর একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন শর্মিলা শ্রেষ্ঠা। ১৪ মাসের মেয়েকে হারিয়ে ছয় ঘণ্টা পাহাড় চড়ে দুই-তিন দিন পর তাঁকে ফিরে পেয়েছিলেন তিনি। এখন ১৮ মাসের আরেক শিশুকে নিয়ে আত্মীয়ের সঙ্গে শিবিরে দিন কাটছে তাঁর। অভিযোগ, শিশুদের জন্য আলাদা খাবার বা বেবিফুড নেই। বড়দের জন্য দেওয়া ডাল-ভাতই ভাগ করে খাওয়াতে হচ্ছে শিশুদের। রাতে মেঝেতেই ঘুমোতে হচ্ছে মায়েদের।
ভোটেকোশী-ত্রিশূলী করিডোরের একটি শিবিরে তিন মাসের সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নেওয়া পারিয়ার জানান, শিশুদের স্তন্যপান করানোর মতো আলাদা জায়গাও নেই। চারপাশে ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে শিশুরা স্বস্তিতে ঘুমাতেও পারছে না। অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধড়িং জেলার ১৫টি পুরসভা এলাকায় অন্তঃসত্ত্বার সংখ্যা ৪,৪৩০; চলতি মাসেই ৪৯২ জনের সন্তান প্রসবের সম্ভাবনা রয়েছে।
রবিবার নেপাল জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৪২ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮৫টি শিশু। নিখোঁজ ৪,৯৯৬ জন এবং উদ্ধার করা হয়েছে ১৩,১০০ জনকে। এদিকে পর পর দু’দিনে চার জনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি হিমবাহ-হ্রদ নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: আনন্দবাজার
জা.অর্থনীতি/এসআই