১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল, টাকার মান কমল কতটা?
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘ ১১ বছর পর অবশেষে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। কিন্তু বেতন শতভাগ বাড়লেও মুদ্রাস্ফীতির দৌড়ে সরকারি কর্মচারীরা কতটা স্বস্তিতে থাকবেন? গাণিতিক হিসাবে বাস্তব চিত্রটি দেখে নেওয়া যাক।

২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের পর জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ এসে প্রারম্ভিক মূল বেতন সর্বনিম্ন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ঝুলিতে একলাফে বড় অঙ্কের বেতন যোগ হলেও এই দীর্ঘ ১১ বছরে বাজার পরিস্থিতি ও টাকার ক্রয় ক্ষমতায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, গত ১১ বছরে ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে টাকার প্রকৃত মান উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০১৫ সালের ১০০ টাকায় যে পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবা পাওয়া যেত, ২০০৬ থেকে পরবর্তী এক দশকে তা ক্রয় করতে গিয়ে কর্মচারীদের প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি টাকা খরচ করতে হয়েছে।

চাল, ডাল, ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে বাসা ভাড়া ও চিকিৎসা খরচে যে বড় লাফ দেখা গেছে, তা সাধারণ বেতনের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল।

ঠিক এই কারণেই নবম পে স্কেলে কর্মচারীদের মূল বেতন কেবল সামান্য বাড়ানো হয়নি, বরং প্রায় প্রতিটি গ্রেডেই প্রারম্ভিক বেতন সরাসরি দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি পুনর্নির্ধারণ করতে হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন ঠিক ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যেখানে ১ম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, ১১ বছরের ব্যবধানে বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিল নিম্নআয়ের কর্মচারীদের। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে মূল বেতন বৃদ্ধির হার রাখা হয়েছে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

ফলে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের প্রারম্ভিক বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার টাকায়।

পাশাপাশি এই দীর্ঘ সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি চাকরির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে মাসিক ৩ হাজার টাকার ‘প্রতিবন্ধী সন্তান’ ভাতা। তিন ধাপে কার্যকর হতে যাওয়া এই পে স্কেল কর্মচারীদের পকেটে যে অতিরিক্ত অর্থ আনবে, তা গত ১১ বছরে টাকার মান কমে যাওয়ার ধাক্কা কাটিয়ে নতুন করে আর্থিক স্বস্তি ও ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে বলেই আশা করা হচ্ছে।