আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ সুদানে গবাদিপশু লুটকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত এবং আরও ৩৩ জন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ভোরে দেশটির উত্তরাঞ্চলের ওয়ারাপ স্টেটের টং নর্থ কাউন্টির একটি পশুপালক সম্প্রদায়ের শিবিরে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পার্শ্ববর্তী ইউনিটি স্টেটের একদল সশস্ত্র গবাদিপশু লুটকারী এই হামলার মূল হোতা এবং তাদের সঙ্গে আরও কিছু অস্ত্রধারী অংশ নিয়েছিল।
ওয়ারাপ স্টেটের তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী উইলিয়াম উল মায়োম বল জানিয়েছেন, ভোর ৫টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনাটি ছিল একটি ‘বর্বর হামলা’। তিনি এই হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে সংযত থাকার অনুরোধ জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে দুই রাজ্য সরকারের সমন্বিত সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইউনিটি স্টেটের তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী ন্যাকেনিয়া জোহানেস দাবি করেছেন, হামলাকারীরা সবাই তাদের রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন না। তবে উভয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
দক্ষিণ সুদানে সীমিত চারণভূমি ও গবাদিপশুর পানির উৎস দখলকে কেন্দ্র করে আন্তঃগোষ্ঠী ও আন্তঃসম্প্রদায়িক সংঘাত একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পশুপালকদের মধ্যে এই দীর্ঘদিনের বিরোধ প্রায়ই রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। এ ছাড়া দেশের সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের হাতে বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কারণে এসব স্থানীয় সংঘাত মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছায়, যা প্রায়ই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দক্ষিণ সুদান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০১১ সালে প্রতিবেশী দেশ সুদানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর আগামী ডিসেম্বরে দেশটিতে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুখে এমন ভয়াবহ সংঘাত দেশটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
জেএ/অভি