সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞায় পুরুষরা বেকার, সংসারের দায়িত্ব নারীর কাঁধে
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সুন্দরবনে যাওয়ার পথ বন্ধ। স্বামীও তাই ঘরে বেকার। কিন্তু ঘরে বসে থাকে না অভাব, থেমে থাকে না ঋণের কিস্তি। সংসারের চাকা সচল রাখতে তাই রোদে পুড়ে, লোনা পানিতে ভিজে অন্যের চিংড়ি ঘেরে দিনমজুরের কাজ করছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সাবিনা খাতুন।

মুন্সীগঞ্জ পূর্ব কালিনগরের এই নারীর স্বামী আব্দুস সালাম সুন্দরবননির্ভর জেলে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞায় বনে মাছ-কাঁকড়া ধরতে যেতে পারেন না তিনি। তখন আয় বন্ধ হয়ে যায়। সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা আর এনজিও-মহাজনের ঋণের কিস্তি চালাতে বাধ্য হয়ে কাজে নামতে হয় সাবিনাকে।

সাবিনা খাতুন বলেন, “বন বন্ধ থাকলে স্বামী কাজ পায় না। কিন্তু সংসারের খরচ আর ঋণের কিস্তি তো বন্ধ থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে আমাকেই রোদে পুড়ে, জলে ভিজে পরের চিংড়ি ঘেরে ‘জোন’ (মজুরি) দিতে হয়। আগে মিষ্টি পানিতে ধান হতো, এখন লোনা পানির কারণে আবাদি জমি শেষ। বিকল্প কাজ বলতে শুধু ঘেরের শারীরিক শ্রমই বাকি আছে।”

সাবিনার গল্পটি শুধু একটি পরিবারের নয়; সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো পরিবারের বর্তমান বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞায় পুরুষদের কর্মহীনতার চাপ এসে পড়ছে নারীদের ওপর। সংসার টিকিয়ে রাখতে কম মজুরিতে কঠোর শারীরিক শ্রমে যুক্ত হচ্ছেন তারা।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার মানুষের জীবিকা সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের ওপর নির্ভরশীল। জীববৈচিত্র্য ও প্রজনন রক্ষায় বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সুন্দরবনে বনজ সম্পদ আহরণ এবং সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার এই সময়টিই বনজীবী পরিবারগুলোর জন্য হয়ে ওঠে সবচেয়ে কঠিন।

বনজীবীদের অভিযোগ, সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয় হলেও বিকল্প কর্মসংস্থান ও পর্যাপ্ত সহায়তার ব্যবস্থা না থাকায় এই সময়ে উপকূলজুড়ে নেমে আসে নীরব অর্থনৈতিক সংকট। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে বিকল্প কাজের সুযোগ ও দক্ষতার অভাবে অনেক পুরুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন। ফলে পরিবারের খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা ও ঋণের কিস্তি মেটানোর দায়িত্ব নিতে হয় নারীদের।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি