নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রমে শিক্ষক-গবেষকদের উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনা নীতিমালা করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। নতুন নীতিমালায় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি গবেষণাকর্মের সাইটেশনকেও প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। ভেরিফায়েড গুগল স্কলার প্রোফাইলে প্রতি ১০০টি সাইটেশনের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং জার্নালের মানভেদে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রকাশনা প্রণোদনা প্রদানের নীতিমালা ও হার-২০২৬’ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ডেটাবেজে অধিভুক্ত Q1 শ্রেণির জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য ৪০ হাজার টাকা, Q2-এর জন্য ৩০ হাজার, Q3-এর জন্য ২০ হাজার এবং Q4 শ্রেণির জার্নালের জন্য ১০ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।
নীতিমালায় জার্নালের মান নির্ধারণে ওয়েব অব সায়েন্স, জার্নাল সাইটেশন রিপোর্টস (JCR), সিমাগো জার্নাল র্যাঙ্কিং (SJR) এবং স্কোপাসের বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
পূর্বের নীতিমালায় শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকলেও এবার সাইটেশন যুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, একজন গবেষকের কাজ আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে যত বেশি ব্যবহৃত ও উদ্ধৃত হবে, গবেষণাটির প্রভাব তত বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে নোবিপ্রবির গবেষণার দৃশ্যমানতাও বাড়বে।
তবে প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। আবেদনকারীকে নোবিপ্রবির শিক্ষক হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রের First Author অথবা Corresponding Author হতে হবে। শিক্ষা ছুটিসহ অন্যান্য ছুটিতে থাকা অবস্থায় এ প্রণোদনার জন্য আবেদন করা যাবে না। পিএইচডি ছুটিকালীন সময়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্রও এ প্রণোদনার আওতায় আসবে না। তবে নোবিপ্রবির সঙ্গে যৌথ বা Collaborative গবেষণার ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
একটি গবেষণাপত্রের জন্য First Author অথবা Corresponding Author—দুজনের মধ্যে যেকোনো একজন মাত্র একবার প্রণোদনার জন্য আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে একজন গবেষক সর্বোচ্চ তিনটি প্রকাশিত গবেষণাপত্রের জন্য প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচিত হবেন।
তবে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে বরাদ্দ পাওয়া অর্থের ওপর প্রণোদনার পরিমাণ ও সংখ্যা নির্ভর করবে। বরাদ্দের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেল এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
নোবিপ্রবির র্যাংকিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের অতিরিক্ত পরিচালক ও সাস্টেইনঅ্যাবিলিটি কমিটির সদস্য সচিব ড. ফাহদ হুসাইন বলেন, QS ও Times Higher Education (THE)-এর মতো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে মানসম্পন্ন প্রকাশনা ও সাইটেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের গড় সাইটেশন সংখ্যাও গবেষণার সুনাম বা Research Reputation-এ প্রভাব ফেলে। তাই মানসম্পন্ন গবেষণায় উৎসাহ দিতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নোবিপ্রবি রিসার্চ সেলের পরিচালক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, গবেষকদের প্রণোদনা দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে এবং আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে আবেদনগুলো মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, ইউজিসির নতুন অর্থবছরের নীতিমালা অনুযায়ী গবেষণা তহবিলের ৮৫ শতাংশ স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণায় ব্যয় করতে হবে। অবশিষ্ট ১৫ শতাংশ রিসার্চ অ্যাওয়ার্ডসহ অন্যান্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে।
উপ-উপাচার্য আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দসংক্রান্ত চিঠি এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি। ফলে গবেষকদের প্রণোদনা প্রদানের বিষয়টি বরাদ্দ পাওয়া গবেষণা তহবিলের ওপর নির্ভর করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নোবিপ্রবিকে এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এ নীতিমালা গবেষকদের শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাব ফেলতে সক্ষম মানসম্পন্ন গবেষণায় উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে সাইটেশনভিত্তিক প্রণোদনা গবেষকদের এমন গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে পারে, যা আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে নোবিপ্রবির গ্রহণযোগ্যতা ও ভাবমূর্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে অবস্থান শক্তিশালী করা এবং সামগ্রিক গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতেও এ নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি