সাভারে প্রেশারকুকার বোমা নিষ্ক্রিয়
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সাভার প্রতিনিধি: সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে উদ্ধার হওয়া একটি শক্তিশালী প্রেশারকুকার বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর বোম ডিসপোজাল ইউনিট। 

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয়দের সরিয়ে নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় লোকজন একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর কোরআন শরীফ ও কাপড়ের সাথে প্রেশারকুকারটি দেখতে পেয়ে মসজিদের মাঠে রেখে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ড্রামটি অজ্ঞাত ৩ ব্যক্তি রেখে গেছে বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা যায়নি।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, এর আগে মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করে দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন মোঃ আরিফ হোসেন। অন্যজন নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’, যাকে এ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সিটিটিসি’র যুগ্ম কমিশনার জানান, উদ্ধার করা পাইপ বোমাগুলোতে ‘হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড’ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে আটক আরিফ হোসেনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কিশোরগঞ্জ থেকে অনুসরণ করছিল। পরে আরিফ সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় বাস থেকে নামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছে তল্লাশি করে ৫টি বিস্ফোরক, একটি ব্যাগ, চাকু ও লাইটার উদ্ধার করা হয়। পরে আরিফের দেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর প্রাইমারি স্কুলের পেছনে আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে ৯টি পাইপ বোমাসহ বিপুল পরিমাণ গান পাউডার ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

আটক আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়ির নিচতলা থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও ৯টি পাইপ বোমাসহ মোট ১৪টি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ধলেশ্বরী নদীর পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করেন বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা জানান, ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে তারা আগে থেকে কিছুই জানতেন না। গত ২ আগষ্ট আব্বাস আলী নামে একজনসহ আরও একজন বাসা ভাড়া নিতে এসেছিলেন। তাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আমরা তাদের বাসা ভাড়া দিই। তারা জানিয়েছিলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি পাবনা হেমায়েতপুর এলাকায়। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেখানে থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে তাদের ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করাবেন। এছাড়া ভাড়া নেয়ার সময় তারা জানিয়েছিল, তারা ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন। পরিবার নিয়ে থাকবেন বলেই আমরা তাদের বাসা ভাড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বাসার ভেতরে এত কিছু লুকিয়ে রাখবে, সেটা আমরা কোনোভাবেই জানতাম না।

সিটিটিসি’র যুগ্ম কমিশনার আরও জানান, উদ্ধার হওয়া বোমায় হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামিনে বা পালিয়ে আসা জঙ্গিরা পুনরায় নতুন সেল গঠন ও বিস্ফোরক তৈরি করছিল। সাম্প্রতিক অন্যান্য বিস্ফোরণের সাথে এর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে এবং ৩১ জুলাই আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকার হৃদয় চাকমার মালিকানাধীন ‘জয়ী জেনারেল স্টোরের’ বেঞ্চে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে প্রেশার কুকার বোমা’ জব্দ করে পুলিশ। যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, কুমিল্লা এবং কেরানীগঞ্জে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিটিটিসি।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি