দায়সারা আয়োজনে বিভাগীয় বৃক্ষমেলা, ক্ষুব্ধ নার্সারি মালিকেরা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সিলেট প্রতিনিধি:  ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশে যখন পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই সিলেটে সরকারি আয়োজনে শুরু হওয়া বিভাগীয় বৃক্ষমেলা চলছে চরম অব্যবস্থাপনায়। সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াই গড়াচ্ছে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬’।

রবিবার (৯ আগস্ট) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে মেলার অষ্টম দিনে গিয়ে দেখা যায়, পক্ষকালব্যাপী এ মেলা গত ১ আগস্ট শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়নি। মেলার মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা প্যান্ডেলটি এখনো কঙ্কালসার কাঠামোর মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।

অতীতে বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বর্ণিল আয়োজনে এই মেলা শুরু হলেও এবার তা একেবারেই অনুপস্থিত। না আছে প্রচার-প্রচারণা, না আছে দৃশ্যমান কোনো জনসম্পৃক্ততা। নীরবে শুরু হওয়া এই মেলার খবর সাধারণ দর্শনার্থীরা না জানতে পারায় মেলায় বেচাকেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্টল মালিকেরা।

মেলার প্রচারের ঘাটতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অংশ নেওয়া নার্সারি ব্যবসায়ীরা। সুগন্ধা নার্সারির স্বত্বাধিকারী মনোয়ারা বেগম জানান, প্রতিটি স্টল সাজাতে পরিবহন ও কর্মচারী খরচসহ ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। প্রচার না থাকায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা। এদিকে মেলার প্রচার বাড়াতে ‘সিলেট নার্সারি মালিক কল্যাণ সংস্থা’ নিজ উদ্যোগে মাইকিং শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মলয় লাল ধর।

মেলা মূল্যায়ন কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোনো মন্ত্রী দিয়ে উদ্বোধন করানোর মানসিকতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই সময় বারবার পিছানো হয়েছে, যা সরকারি অর্থের অপচয় ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির সামিল।

এ বিষয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, "বাণিজ্য মন্ত্রীর উদ্বোধন করার কথা থাকলেও বিশেষ প্রয়োজনে তিনি আসতে না পারায় আনুষ্ঠানিকতা হয়নি। তবে প্রচারের জন্য মাইকিং ও সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা সময় বাড়ানোর দাবি জানালে তা বিবেচনা করা হবে।"

উল্লেখ্য, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বন বিভাগ, ব্যক্তিমালিকানাধীন নার্সারিসহ মোট ৫০টি স্টল নিয়ে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং তা আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি