দুর্ভোগ পেরিয়ে স্বস্তির পথে কিশোরগঞ্জের সড়ক
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: একসময় খানাখন্দ, সরু রাস্তা ও দীর্ঘ যানজট ছিল কিশোরগঞ্জের মানুষের নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে একরামপুর থেকে সতাল হয়ে করিমগঞ্জের চামড়াঘাট ও হাওরাঞ্চলগামী সড়কে চলাচল ছিল চরম দুর্ভোগের। তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) কিশোরগঞ্জের বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফলে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। নতুন সড়ক ও বাইপাস নির্মাণের মাধ্যমে জেলার পৌরবাসীসহ ১৩ উপজেলার মানুষের যাতায়াতে ফিরেছে স্বস্তি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই বছর আগেও সতাল থেকে একরামপুর পর্যন্ত খানাখন্দ ও যানজট পেরিয়ে আসতে আধাঘণ্টা থেকে এক ঘন্টা কিংবা তারও বেশি সময় লাগত। বর্তমানে প্রশস্ত ও উন্নত সড়ক নির্মাণের ফলে সিএনজি, অটোরিকশা এবং অন্যান্য যানবাহন সহজেই স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রায় ৭৩১ কোটি ৩১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একরামপুর-চামড়াঘাট, ছয়না বাইপাসসহ মোট ২৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স তাহের ব্রাদার্স, মেসার্স রানা বিল্ডার্স এবং মেসার্স মুজাহার এন্টারপ্রাইজ।

ইতোমধ্যে ছয়না থেকে চৌদ্দশত পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার এবং একরামপুর থেকে সতাল পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে কিশোরগঞ্জ-নিকলী মহাসড়কের সিদ্ধেশ্বরী মন্দির থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪০০ মিটার অংশ রিজিড পেভমেন্ট পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হয়েছে। এ কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে তৃতীয় ধাপে বিন্নাটি থেকে কাপাসিয়া পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭২০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে বিন্নাটি, পাকুন্দিয়ার কোদালিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে কয়েক কিলোমিটার বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

পৌর শহরের বাসিন্দা ইসমাইল বলেন, "আগে একরামপুর থেকে যশোদল রাস্তায় চলাচল ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। ভাঙা রাস্তার কারণে প্রায়ই অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হতো। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অনেক সময় পথে আটকে থাকতে হতো। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে।"

সিএনজি চালক মোজাম্মেল বলেন, "প্রতিদিন একরামপুর থেকে চামড়াঘাট পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। আগে রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। এখন নতুন রাস্তা হওয়ায় সময়ও কম লাগে, গাড়িও ভালো থাকে।"

সড়ক ও জনপদ বিভাগ কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মো. ফয়সাল বলেন, "কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ও বাইপাস নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সংস্কার কাজও চলমান রয়েছে। মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।"
‎ 
—জা. অর্থনীতি/এলএটি