বাবার জীবন বীমার ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবি তরুণীর
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাবার জীবন বীমার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী চুমকি আক্তার। 

তিনি অভিযোগ করেন, মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ, আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ প্রদান এবং লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম অনুযায়ী তার প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করছে না।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চুমকি আক্তার বলেন, তার বাবা বগুড়া শাখার মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সে একটি জীবন বীমা করেছিলেন। তবে মাত্র দুইটি কিস্তি পরিশোধের পর তিনি মারা যান। তিনি ওই বীমা পলিসির নমিনি হলেও ঘটনার দুই থেকে তিন বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ন্যায্য পাওনা বুঝে পাননি।

তিনি আরও বলেন, পাওনা অর্থ আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আইনজীবীর মাধ্যমে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়। পরে কোম্পানির পক্ষ থেকে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি।

চুমকি আক্তারের অভিযোগ, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র তার বাবার পরিশোধ করা প্রায় ৪৪ হাজার টাকা ফেরত দিতে চাচ্ছে। অথচ বীমার শর্ত ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি যে অর্থ পাওয়ার অধিকারী, তা পরিশোধ করা হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি কোনো অনুগ্রহ চাই না, আমি আমার বাবার বীমার ন্যায্য পাওনা চাই। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে তার ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে মেডলাইফ বাংলাদেশ-এর হেড অব কমিউনিকেশন সাইফুর রহমান বলেন, বীমা দাবি দ্রুত ও সহজে পরিশোধের বিষয়ে মেটলাইফ সবসময়ই তৎপর। জীবন বীমা খাতে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ বীমা দাবি মেটলাইফই পরিশোধ করে আসছে। বীমা দাবি পরিশোধের জন্য যদি অতিরিক্ত সময়, আরও তথ্য ও অনুসন্ধ্যানের প্রয়োজন হয়, সেসব বিষয় গ্রাহককে সুষ্পষ্টভাবে জানানো হয়। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। উক্ত পলিসি থেকে প্রাপ্য অর্থের বিষয়ে গ্রাহককে আগেই পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছিল, কিন্ত দুঃখজনকভাবে গ্রাহক যে পরিমাণ অর্থ দাবি করছেন তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় যেকোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

—জা. অর্থনীতি/এনজে