চট্টগ্রাম বন্দরের ছয় বার্থ অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাব ফেরত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এলাকায় পাঁচ বছরের জন্য ছয়টি কার্গো বার্থ অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। ফলে নতুন অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত অনিশ্চয়তায় পড়েছে। প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অপারেটরদের মাধ্যমেই কার্যক্রম চালানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বুধবার (২২ জলাই) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০২৬ সালের ৩২তম বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। তবে প্রস্তাবটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) জন্য উত্থাপিত প্রস্তাবে ছয়টি কার্গো বার্থে পাঁচ বছরের জন্য অপারেটর নিয়োগে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৬৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। এ ব্যয় সরকারি নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বহনের কথা ছিল।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যমান ছয়টি বার্থ অপারেটরের চুক্তির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। নতুন অপারেটর নিয়োগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক ধাপ, দুই খাম (ওয়ান স্টেজ, টু এনভেলপ) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করে। ছয়টি লটের বিপরীতে ১২টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান কারিগরি মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়। পরে আর্থিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) সর্বনিম্ন দরদাতা ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগের সুপারিশ করে।

সুপারিশ অনুযায়ী, বার্থ-২-এর জন্য মেসার্স রুহুল আমিন অ্যান্ড ব্রাদার্সকে ৪৪ কোটি ২ লাখ টাকায়, বার্থ-৩-এর জন্য এ ডব্লিউ খান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে ৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকায়, বার্থ-৪-এর জন্য ইউনাইটেড ট্রেডিং কোম্পানিকে ৪৪ কোটি ১ লাখ টাকায়, বার্থ-৫-এর জন্য মেসার্স কসমস এন্টারপ্রাইজকে ৪৪ কোটি টাকায়, বার্থ-৭-এর জন্য মেসার্স ফোর জুয়েল স্টিভেডরিং সিন্ডিকেট লিমিটেডকে ৪৪ কোটি টাকায় এবং বার্থ-৮-এর জন্য মেসার্স পঞ্চরাগ উদয়ন সংস্থা লিমিটেডকে ৪৪ কোটি ২ লাখ টাকায় নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, বার্থ অপারেটরদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন অপারেটর নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্র মূল্যায়নের পর ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগের প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

তবে প্রস্তাবটি ফেরত পাঠানোর কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, “সপারিশপ্রাপ্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠানই আমাদের সংগঠনের সদস্য। তবে প্রস্তাবটি কেন অনুমোদন হয়নি, সে বিষয়ে এখনো আমাদের কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও প্রস্তাবটি ফেরত পাঠানোর কারণ প্রকাশ করেনি। ফলে নতুন বার্থ অপারেটর নিয়োগ কবে চূড়ান্ত হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি