সুমন মিয়া, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ): একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে শতশত অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও আগের চিত্র।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এখনো অবৈধ দখল, যানজট ও জনদুর্ভোগের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা, ফুটপাত ও ফুটওভার ব্রিজ দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট এবং অটোরিকশার স্ট্যান্ডে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে উদ্ধবগঞ্জ হয়ে বৈদ্যেরবাজার এবং কাইকারটেক হাট পর্যন্ত সড়কটি সোনারগাঁ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং পার্শ্ববর্তী আড়াইহাজার ও মেঘনা উপজেলার মানুষের প্রধান যোগাযোগপথ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও নৌঘাটে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোগরাপাড়া চৌরাস্তার দুই পাশের সওজের জায়গাজুড়ে সারি সারি অবৈধ দোকানপাট। ফুটপাত দখল করে বসেছে ফল, সবজি, মাছ, চা ও পান-সিগারেটের দোকানসহ বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট। কোথাও আবার সড়কের পাশ দখল করে অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। এতে যানবাহন থামানো ও যাত্রী ওঠা-নামার সময় মহাসড়কের একটি লেন প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য নির্মিত ফুটওভার ব্রিজের একাংশও হকারদের দখলে। দোকানের কারণে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক পথচারী বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোগরাপাড়া চৌরাস্তার অবৈধ দোকানপাট ও অটোরিকশা স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র এসব দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ তাদের।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়সহ প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদের পরও মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের দায়ে ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং একজনকে জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা পুরো উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। কিন্তু অবৈধ দোকানপাট, অটোরিকশার স্ট্যান্ড ও যানজটের কারণে প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের পুনর্বাসন করে আলাদা জায়গা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনো সেই ব্যবস্থা করা হয়নি। জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে এখানেই বসে ব্যবসা করছি। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হলে আমরা নির্ধারিত স্থানেই চলে যেতে প্রস্তুত।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, বর্তমানে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাইওয়ে পুলিশও নিয়মিত মনিটরিং করছে। যেখানে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, সেখানে মামলা দেওয়া হচ্ছে। হকারদের পুনর্বাসনের একটি দাবি রয়েছে।
এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করেছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও কথা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের কোথায় পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়েও কাজ চলছে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে