রাঙামাটি প্রতিনিধি: টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলিইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। টানা বর্ষণে নতুন করে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজার, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির ও গির্জা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যমুনাছড়ি বম পাড়া, তক্তানালা, একুজ্জ্যাছড়িসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম।
এছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী, রূপকারী, খেদারমারা, সাজেক, মারিশ্যা, সারোয়াতলী, বাঘাইছড়ি ও আমতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা সদরের হাজীপাড়া, মাস্টারপাড়া, তুলাবান, মুসলিম ব্লক, বাবুপাড়া ও মাদ্রাসাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘরবাড়ি ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
জুরাছড়ি উপজেলার মৈদুং ও সদর ইউনিয়নের নীচু এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ফসলি জমিও তলিয়ে যায়। বিলাইছড়ির দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের ফারুয়া বাজার, গোয়াইনছড়ি, তারাছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, যমুনাছড়ি, উলুছড়ি, তক্তানালা ও ওরাছড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের নিচু এলাকার ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে গেছে। বন্যায় রাঙামাটি জেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি আছে।
টানা বর্ষণে এ পর্যন্ত রাঙামাটি ১২৫টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় ধসে রাঙামাটি সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
রাঙামাটি জেলায় মোট ২০৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৩৭২৩ জন আশ্রয় নিয়ছেন। আশ্রয় গ্রহণকারীদের খাবার সরবরাহ করছে জেলা প্রশাসন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, বিলাইছড়ির দুর্গম ফারুয়া খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয় নেওয়া সকলকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে