পাহাড় ধসে মৃত্যু হলে কি শহীদের মর্যাদা পাবেন?
ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম ডেস্ক: প্রবল বর্ষণ আর পাহাড় ধসের খবরে আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলো ভারী হয়ে ওঠছে। মুহূর্তের মধ্যে মাটির নিচে চাপা পড়ে নিভে যাচ্ছে বহু তরতাজা প্রাণ। প্রিয়জন হারানোর এই হাহাকারের মাঝে একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে—এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা কি ইসলামের দৃষ্টিতে শহীদের মর্যাদা পাবেন?

সাধারণত শহীদ বলতে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের বুঝে থাকি। কিন্তু ইসলামে আল্লাহর অসীম অনুগ্রহে দুর্ঘটনা বা মহামারিতে মৃত মুমিনদের জন্যও শহীদের সুসংবাদ রয়েছে। সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিসে রাসুল (সা.) পাঁচ শ্রেণির মানুষকে শহীদ বলেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘সাহিবুল হাদম’ বা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণকারী। সমকালীন আলেমদের মতে, পাহাড় বা ভূমিধসে মাটিচাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করাও এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।

ইমাম নববি (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ ধরনের মৃত্যুতে নিহত ব্যক্তিরা শহীদুল আখিরাহ বা পরকালের শহীদ হিসেবে গণ্য হবেন। অর্থাৎ, তারা আখেরাতে শহীদের সওয়াব ও মর্যাদা পাবেন, যদিও দুনিয়াতে তাদের গোসল, কাফন ও জানাজা সাধারণ নিয়মেই সম্পন্ন হবে। তবে মনে রাখা জরুরি, আমরা কেবল আশা করতে পারি। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে নিশ্চিতভাবে শহীদ ঘোষণার চূড়ান্ত ফয়সালা কেবল আল্লাহ তায়ালাই করবেন।

ইসলাম একদিকে যেমন বিপদে ধৈর্য ধরতে শেখায়, তেমনি জীবনের সুরক্ষাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না।’ (সুরা বাকারা, ১৯৫)।

তাই অকারণে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা অনুচিত। পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করা, অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ঝুঁকি বাড়ানো কিংবা দুর্যোগের সরকারি সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা ইসলামি শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

যারা পাহাড় ধস বা এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, আমাদের উচিত তাদের জন্য আল্লাহর কাছে রহমত, মাগফিরাত ও শহীদের মর্যাদা কামনা করা। একইসাথে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইন মেনে চলা আমাদের সবার নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজতে রাখুন। আমিন।

জা. অর্থনীতি/ উমার