কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ১০১ নং চান্দপুর হাজীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নোংরা পানি মাড়িয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যেতে হচ্ছে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে। একই সাথে বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকাসহ তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান।
১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হওয়া এই বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মূল ভবন এবং সামনের রাস্তাটি উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকা পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে সবাইকে হাঁটু পানি ভেঙে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এই নোংরা পানি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মাঠটিতে মাটি ভরাট করে রাস্তার সমপর্যায়ে আনা হোক।
জলাবদ্ধতার পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে তীব্র প্রশাসনিক ও শিক্ষক সংকট রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য থাকায় একজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে ২৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ৪ জন সহকারী শিক্ষক কর্মরত আছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী (১:৪০ অনুপাত) অন্তত ৬ জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও, এখানে অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:৬২.৫। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অফিশিয়াল কাজে উপজেলা সদরে গেলে মাত্র ৩ জন শিক্ষকের পক্ষে ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ নাজনিন সুলতানা মুন্নি বলেন, "শত কষ্টের মাঝেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। তবে জরুরি ভিত্তিতে একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় সহকারী শিক্ষক দেওয়া হলে পাঠদান আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো।"
এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার যেসকল বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হয়, সেগুলোর সমস্যা সমাধানে শিক্ষা বিভাগ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং প্রতিটি বিদ্যালয় নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি