লালমনিরহাট প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে ব্যারাজের ভাটিতে থাকা জেলার হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে রাত ৯টায় তা ৫২ দশমিক ১৮ মিটারে পৌঁছায়। এই পয়েন্টে পানির স্বাভাবিক বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করে নদী আবার ফুসে উঠে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় আবারও চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। অনেকেই বন্যা পূর্বাভাস পেয়ে সতর্ক অবস্থায় গবাদিপশু ও জরুরি আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, উজান থেকে আসা পানির প্রবল প্রবাহের কারণে নদীর পানির স্তর দ্রুত ওঠানামা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট (স্লুইস গেট) খুলে রাখা হয়েছে।
পাউবোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উজানে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তিস্তার পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
