চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগে সিওমেকে কর্মবিরতি
ছবি সংগৃহীত

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজে অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করায় স্থবির হয়ে পড়েছে সামগ্রিক কার্যক্রম। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও এর সামনে এই রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট মূল ব্যক্তিরা হলেন— আহত ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসপিয়ানুল হক ও রেজা নিলয়, ইন্টার্ন চিকিৎসক রাকিন হান্নান, নগরের বালুচর এলাকার আহত স্বজন আবরার হোসেন ও জাহিদ এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মাইনুল জাকির।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে— মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক শিশুরোগীকে নিয়ে কয়েকজন স্বজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এ সময় চিকিৎসা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে স্বজনদের তীব্র কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবি, রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকে অতিরিক্ত লোক এনে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসককে বেদম মারধর করেন। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বর্তমানে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার পর রাত আড়াইটার দিকে পৃথক বিবৃতিতে হাসপাতালটির ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরামের নেতা রাকিন হান্নান বলেন, “কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর আঘাত। হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মবিরতি চলবে।” কোতোয়ালি থানার ওসি খান মাইনুল জাকির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান— পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি