মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে মাদক ও পুশ-ইনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সচেতনতামূলক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, "সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশ-ইন ও মাদক একটি বড় হুমকি। শুধু বিজিবি বা পুলিশের পক্ষে একা এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও চা-বাগান কর্তৃপক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিন।"
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং জুলেখানগর বিওপির কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. আমজাদ হোসেন।
পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "মাদক ব্যবসায়ীরা সীমান্তের সুযোগ নেয়। আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। তবে গ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতা কমিটি গঠন করতে হবে।" বিজিবি কমান্ডার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, "সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু জনগণই আমাদের চোখ-কান। পুশ-ইনের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে বিওপিতে জানান।"
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল, জুলেখানগর চা-বাগান ব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান এবং সিন্দুরখান ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান।
বক্তারা বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার থেকে সচেতনতা শুরু করতে হবে। সকলের সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পুশ-ইন এবং মাদকের অনুপ্রবেশ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সভায় বাগান পঞ্চায়েতের নেতৃবৃন্দ, চা-শ্রমিক, শিক্ষক, যুব সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
