আবারো বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আবারো বাড়তে শুরু করেছে। আজ রোববার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের নিচু এলাকায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটের সবগুলোই খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৩টায় তিস্তা ব্যারাজ (ডালিয়া) পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ পানি বাড়ায় পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকা এবং হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে চরের বাদামক্ষেত, আমন ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তীব্র আতঙ্কে রয়েছেন কৃষকরা।

গড্ডিমারী ও তিস্তাপাড়ের কৃষক সোলাইমান গনি ও আহলাদ হোসেন জানান, সকাল থেকে যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে আমন ধানের চারাসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার মৎস্যচাষি রাইসুল ইসলাম জানান, হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টির কারণে পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার চিন্তায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে পানি কমার পর তীব্র নদীভাঙনের ভয়ও কাজ করছে তাদের মনে।

তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, সকাল থেকেই নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রতি বছরই উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়। এবারের পানির এই ওঠানামার কারণে ইতোমধ্যে নদীর বেশ কিছু পয়েন্টে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি