আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই কম্পনের জেরে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকার। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট নিজেই এ ঘোষণা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, বিবিসি এবং ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বুধবার (২৪ জুন) ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউএসজিএস। তবে এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিহত বা আহতের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ‘ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এবং ভয়াবহ এই দুর্যোগের প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।’
সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ আপডেটে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাকাস এবং আশপাশের অঞ্চল কেঁপে ওঠে। ইউএসজিএসের হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হওয়ার আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে—এমন আশঙ্কা ৩০ শতাংশ। এছাড়া অঞ্চলটিতে ভূমিধস এবং মাটির তরলীকরণ বা ‘লিকুইফ্যাকশন’-এর উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে।
বিবিসির উত্তর আমেরিকা বিষয়ক সংবাদদাতা উইল গ্রান্ট জানিয়েছেন, ভয়াবহ দুটি ভূমিকম্পের আঘাতের পর বিভিন্ন ভবন তীব্রভাবে দুলে ওঠে এবং আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অনেক ভবনে ফাটল, মারাত্মক ক্ষতি এবং কিছু ভবন ধসে পড়ার চিত্র দেখা গেছে। আফটারশকের আশঙ্কায় হাজার হাজার বাসিন্দা এখনও নিজেদের বাসায় ফিরতে সাহস করছেন না।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিশ্চিত করেছেন যে, ভূমিকম্পের তীব্রতায় দেশের কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।
এদিকে এই ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কর্তৃপক্ষ এখনও পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি