আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর চীন সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, চীনের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় কীভাবে তিনি বেইজিংয়ে প্রবেশ করলেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এক ধরনের ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক ও ভাষাগত কৌশল। চীনের পক্ষ থেকে তার নাম উপস্থাপনের ধরন পরিবর্তন করাই এই সফরের জন্য একটি বিকল্প পথ তৈরি করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কো রুবিও যখন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ছিলেন, তখন তিনি হংকং ইস্যুতে চীনের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ২০১৯ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে চীনের ভূমিকার বিরুদ্ধে তিনি সরব অবস্থান নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেইজিং তার ওপর দুই দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
তবে সাম্প্রতিক সফরে দেখা যায়, চীনা সরকারি নথিপত্রে তার নাম “মার্কো রুবিও” হিসেবে না দেখিয়ে পরিবর্তিত বানানে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ‘রু’ অংশের পরিবর্তে চীনা অক্ষর ‘লু’ ব্যবহার করা হয়। ফলে নামটি দাঁড়ায় “মার্কো লু”।
আল জাজিরার এক সাংবাদিকের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, এই পরিবর্তন একটি পরিকল্পিত কূটনৈতিক “ওয়ার্কঅ্যারাউন্ড” বা বিকল্প ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেই তার সফরের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এমন নাম পরিবর্তনের ঘটনা বিরল হলেও বড় শক্তিগুলোর জটিল সম্পর্কের কারণে কখনও কখনও এ ধরনের ব্যতিক্রমী কৌশল ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারিতে মার্কো রুবিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চীনের বিভিন্ন সরকারি ও গণমাধ্যমে তাকে “মার্কো লু” নামে উল্লেখ করা শুরু হয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইঙ্গিত দিয়েছিল, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এবং কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, মার্কো রুবিও শুধু হংকং ইস্যু নয়, বরং জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়ে আসছেন। তিনি “উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট”-এর অন্যতম প্রধান প্রস্তাবক ছিলেন, যা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে আইন হিসেবে পাস হয়।
সব মিলিয়ে, নামের বানান পরিবর্তনের মতো আপাতদৃষ্টিতে ছোট একটি বিষয় এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোচনা তৈরি করেছে।
—জা. অর্থনীতি/এআইই