সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র কিনলেন যে শিল্পীরা

বিনোদন প্রতিবেদক: দেশের শোবিজ তারকাদের রাজনীতিতে আসার চল বেশ পুরনো। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে শোবিজের অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত সবাইকে ফিরতে হয়েছে শূন্য হাতে। ফলে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে ছুটছেন তারকারা। ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন শোবিজের ছয় তারকা শিল্পী। 

তারা হলেন সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, দিলরুবা খান, কনকচাঁপা, রিজিয়া পারভীন, দিঠি আনোয়ার ও নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী। 

বিএনপি সরকারের শুরুর দুই মাসের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে সরব হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এর মধ্যে ঘোষিত হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের দিনক্ষণ। আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে—জানিয়েছেন ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন। 

জানা গেছে, সংগীতশিল্পী দিলরুবা খান জয়পুরহাট-২ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ প্রসঙ্গে দিলরুবা খান বলেন, ‘আমার নিজস্ব কিছু চিন্তা-ভাবনা আছে। নির্বাচিত হলে কাজগুলো বড় পরিসরে করা সম্ভব—তাই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি।’ 

এর আগে, ২০১৮ সালে নীলফামারী-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন বেবী নাজনীন। এবার তিনি তুলেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বেবী নাজনীন বলেন, ‘মনোনয়ন পেলে চেষ্টা করবো দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে। নতুন প্রজন্মকে শক্তিশালী করতে, সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছেন। তার সঙ্গে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।’ 

এদিকে, সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। এবার জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও সংরক্ষিত আসন নিয়ে আশাবাদী তিনি। এ প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন, ‘মহান সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণের কথা বলতে চাই। জনগণের দুঃখের কথা বলতে চাই। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘদিন গান গাইতে পারিনি। সেসব আমি ভুলে যেতে চাই। নতুন আশায় বুক বেঁধেছি। সারা জীবন অসহায় মানুষ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করেছি। সেই কাজগুলো আরও বড় আকারে করতে চাই। সংগীতশিল্পী হিসেবে আমার জগতের মানুষদের নানা অসুবিধা নিয়ে কথা বলতে চাই। সৎ এবং নিষ্ঠাবান থেকে মানবসেবাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য।’ 

অন্যদিকে, নিজ জেলা কিশোরগঞ্জ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী সংগীতশিল্পী রিজিয়া পারভীন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর প্রতিক্রিয়ায় রিজিয়া পারভীন বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। একজন শিল্পী হিসেবে সংস্কৃতি অঙ্গনের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। মনোনয়ন পেলে নারীদের উন্নয়ন ও সংস্কৃতি খাতে বেশি গুরুত্ব দেবো।’ 

ময়মনসিংহ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পারিবারিকভাবেও তিনি একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক। তিনি বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ময়মনসিংহ-১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ চৌধুরীর কন্যা। 

এ ছাড়া, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন গীতিকার, পরিচালক ও প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মেয়ে কণ্ঠশিল্পী দিঠি আনোয়ার। তার শ্বশুর শফি আহমেদ চৌধুরী বিএনপির হয়ে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মনোনয়ন পেলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান দিঠি আনোয়ার। নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমার বাবাকে দেখেছি বুকের ভেতর দেশ ও দেশের মানুষকে লালন করেছেন। আমারও ইচ্ছা দেশ ও দশের জন্য কিছু করার। আমি মনে করি যে কোনো কাজ বড় পরিসরে করতে হলে রাজনীতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম। দেশের সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে চাই। দল যদি সুযোগ দেয় তাহলে মনপ্রাণ ঢেলে চেষ্টা করবো দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার।’ 

এদিকে, এতো এতো ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের রেখে শোবিজ তারকাদের মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে চলছে অনেক আলোচনা-সমালোচনা। এখন দেখার পালা মনোনয়ন পেলেও জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিত হতে পারেন কি না। নির্বাচিত হলেও জনগণের প্রত্যাশা ও তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কতোটা বাস্তবায়ন করতে পারেন সেটিই এখন দেখার বিষয়। 

—জা. অর্থনীতি/এনএ