জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই অনেক মূল্যবান। এক মুহূর্তের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি মুহূর্ত। যার প্রতিটি অংশই অনেক দামি। জীবনের প্রকৃত আবেদনই হলো, প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো। তাই এ মুহূর্তগুলোকে অনর্থক কাজে বিনষ্ট করা, প্রতিশোধের আগুনে দগ্ধ হওয়া এবং বেকার বিষয়াদি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া সমীচীন নয়।
সময়ের মূল্য বোঝাতে জনৈক জ্ঞানী সুন্দর কিছু উপমা দিয়েছেন–যদি এমন কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হতো, যা প্রতিদিন আমাদের অ্যাকাউন্টে দিনের সেকেন্ডের হিসাবমতে ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা জমা করে। কিন্তু ব্যাংকটির নীতি হলো, দিনশেষে অ্যাকাউন্টে যা থেকে যাবে–যা আমাদের ব্যবহার করা হয়নি তা ব্যাংক কেটে নেবে। ব্যাংকে অবশিষ্ট মুদ্রাগুলো আরেকদিনের জন্য রেখে দেওয়ার অনুমিতও দেয় না এবং আগামী দিনের টাকা আজ তুলে নেওয়ারও অনুমতি দেয় না। তাহলে আমরা কী করব? অবশ্যই প্রতিদিন সূর্যাস্তের আগেই আমাদের অ্যাকাউন্টে থাকা প্রতিটি পয়সা আমরা তুলে নিতে চাইব।
আমাদের কি জানা আছে! আমাদের প্রত্যেকের কাছে এমন একটি ব্যাংক আছে, সেটা হলো সময়। সে প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ৮৬ হাজার ৪০০ সেকেন্ড দেয়। দিনশেষে যে সেকেন্ডগুলো আমরা কোনো গঠনমূলক ও ফলদায়ক কাজে ব্যবহার করতে পারি না সেগুলো আমাদের থেকে চিরতরে হারিয়ে যায়। তাই সময়ের মূল্য জানতে কিছু বিষয়ের দিকে লক্ষ করলে আমরা বুঝতে পারি সময়ের প্রতিটি ফোটা কতটা মূল্যবান।
একটি বছরের মূল্য জানতে একজন ছাত্রকে জিজ্ঞেস করি, যে পরীক্ষায় ফেল করেছে এবং আর একটি পরীক্ষার অপেক্ষায় আছে।
একটি মাসের মূল্য জানতে একজন মাকে জিজ্ঞেস করি, যিনি অষ্টম মাসে সন্তান প্রসব করেছেন। যার ফলে মা তার প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য ধারণ করতে পারেন।
একটি সপ্তাহের মূল্য জানতে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদককে জিজ্ঞেস করি। যিনি প্রতিটি সময়ের মূল্য বুঝে নতুন দিনের সঠিক সময়ে তার কাজ সম্পাদনা করেন।
একটি দিনের মূল্য জানতে একজন দিনমজুরকে জিজ্ঞেস করি, যে দশটি সন্তান লালন-পালন করে! রোদে পুড়ে ঘাম ঝরিয়ে আহার জোগাড় করেন।
একটি ঘণ্টার মূল্য জানতে একজন নববধূকে জিজ্ঞেস করি, যে বাসর রাতে স্বামীর অপেক্ষায় থাকেন! যে কখন তার জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকা নতুন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
একটি মিনিটের মূল্য জানতে সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করি, যে তার গন্তব্যে পৌঁছানোর নির্বাচিত বাহন রেলগাড়ি ফেল করেছে। আর হতাশ মনে অপেক্ষায় বসে অন্য গাড়ি পাওয়ার আশায়।
একটি সেকেন্ডের মূল্য জানতে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করি, যে অল্পের জন্য সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছে। আর মহান রবের কাছে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে অশ্রুসিক্ত চোখে শুকরিয়া আদায় করছেন।
এক সেকেন্ডের হাজার ভাগের এক ভাগের মূল্য জানতে সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করি, যে অলিম্পিক খেলায় রুপার মেডেল পেয়েছেন। যে সেকেন্ডের প্রতিটি জাররা সময়কে সময়ের মূল্য দিয়ে অর্জন করেছেন এ সফলতা।
জাতীয় অর্থনীতি/ উমর
