মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামে পুকুর মালিকের পেতে রাখা অবৈধ ও অরক্ষিত বৈদ্যুতিক লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফারুক হোসেন (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে শোলমারি গ্রামের নতুনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারুক হোসেন একই এলাকার মৃত খেদুর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফারুক হোসেন কৃষিকাজের পাশাপাশি একজন মাছ শিকারি ছিলেন। গতকাল ভোরে তিনি পিয়ারপুর মাঠে নিজের জমিতে ঘাস কেটে পুকুরপাড়ের হাঁসের খামারের পাশ দিয়ে মাঠের অন্যপ্রান্তে যাচ্ছিলেন। হাঁসের খামারের নিচ দিয়ে লোহার তারের সাথে সরাসরি জড়িয়ে রাখা উন্মুক্ত বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শ লাগলে তিনি ঘটনাস্থলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
বিষয়টি টের পেয়ে পুকুর মালিক রিপন বিশ্বাসের পাহারাদার লোকমান তড়িঘড়ি করে মরদেহটি সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেন এবং সটকে পড়েন। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন মাঠে যাওয়ার সময় খামারের পেছনে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে ফারুক হোসেনকে শনাক্ত করেন এবং তার পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। প্রথমে মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার না হলেও মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর তার ডান হাত ও শরীরের কয়েকটি স্থানে পোড়া জখম দেখতে পান।
পরিবারের লোকজনের ধারণা, খামারের পেছনে দেওয়া বৈদ্যুতিক তারেই তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, এই মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে চরম দায়িত্বহীনতা ও অবৈধ সংযোগের চিত্র। বাঁশের খুঁটির সাথে লোহার তার বেঁধে সেখানে সরাসরি বৈদ্যুতিক লাইন জড়িয়ে রাখা হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে পুকুর মালিক রিপন বিশ্বাসে বলেন, আমি শহরে আছি। ১১টার দিকে ঘটনাটি শুনলাম। পুকুর পাহারার জন্য চারপাশে প্রায় ৬ ফুট উপরে তার দেওয়া আছে। সেখানে ঘাস কাটার সময় যে কোনোভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তবে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক লাইন পুকুর পাড়ের নিচ দিয়ে দিয়ে দেওয়া ছিল।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পরপরই তিনি তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে পুকুরের তার সরিয়ে ফেলেন।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম কারিগরি-সদর শ্যামল কুমার মল্লিক জানান, সার্ভিস ড্রপলাইনের সাথে এভাবে লোহার তার পেঁচিয়ে রাখা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যুৎ লাইনের এমন অনিরাপদ ব্যবহার সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে, যা প্রচলিত আইন অনুযায়ী একটি গুরুতর ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডাক্তারের রিপোর্টের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে