ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬-২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত বাস্তবতায় জাপান বর্তমানে এক অভূতপূর্ব সামাজিক রূপান্তরের মুখোমুখি, যেখানে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির ফলে দেশটির শিল্প ও সেবাকেন্দ্রে কর্মক্ষম জনশক্তির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হলো এর এক বিশাল ও উদ্যমী তরুণ জনগোষ্ঠী যা দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনসংখ্যাগত সুবিধার উজ্জ্বল রূপ। দুই দেশের মাঝে এ বিপরীতমুখী জনসংখ্যাগত চিত্র এক অনন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিপূরকতা তৈরি করেছে যা উভয় দেশের টেকসই অগ্রগতির স্থায়ী ভিত্তি হতে পারে।
এই সম্ভাবনাময় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভারসাম্য তৈরিতে কাজে লাগাতে সফরকালে প্রায় ৫০টি জাপানি কোম্পানির চুক্তি স্বাক্ষরের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ চুক্তিগুলোকে কেবল সাময়িক জনশক্তি রপ্তানির সাধারণ প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা ছাড়া ও অদক্ষ জনশক্তি পাঠানোর পুরোনো মানসিকতা আঁকড়ে ধরলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে। জাপানের কঠোর মানদণ্ডে অদক্ষ শ্রমিক পাঠালে মজুরি কমার পাশাপাশি দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি বাড়ে। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফলে সফরটিকে কেন্দ্র করে যদি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, আর্থিক বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির সমন্বয়ে একটি স্থায়ী রূপরেখা তৈরি করা যায়, তবে তা দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের গতিপথ আমূল বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে প্রশিক্ষণব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে।
দ্বিপক্ষীয় শ্রম সম্পর্ককে একটি মজবুত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে গত ১৭ অক্টোবর ‘এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ক সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে যার বাস্তবায়নে ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলে, শুধু চুক্তি করলেই দক্ষতা নিশ্চিত হয় না; সঠিক প্রশিক্ষণ ও সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা না থাকলে চুক্তি কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে।
জাপানের শ্রমবাজারে কারিগরি দক্ষতার চাহিদা বেশি। স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যায় কাজ করতে হলে জাপানি ভাষা, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও রোগীর নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ থাকা জরুরি। উৎপাদনশিল্পে পণ্যের নিখুঁত সংযোজন, আধুনিক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ বা কোয়ালিটি কন্ট্রোলের দক্ষতা থাকা চাই। একইভাবে নির্মাণ ও কারিগরি ট্রেডের ক্ষেত্রে ওয়েল্ডিং, বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং, মেকানিক্যাল রক্ষণাবেক্ষণ এবং জটিল ব্লুপ্রিন্ট অনুধাবনের সক্ষমতা থাকাও জরুরি।
তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও সফটওয়্যার উন্নয়নে উচ্চতর দক্ষতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যৌথ সনদ অর্জন করার পাশাপাশি কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, গাড়ি চালনা ও মেকানিক্যাল মেইনটেন্যান্সের মতো বিশেষায়িত সেবাখাতেও কারিগরি শর্ত পূরণের কোনো বিকল্প নেই। এসব সুনির্দিষ্ট কারিগরি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রশিক্ষণের বড় অঙ্কের আর্থিক অপচয় ঘটবে ও বাংলাদেশি কর্মীরা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থেকে মজুরি বঞ্চিত হবেন। এ জটিল ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের চাহিদা মেটাতে প্রথাগত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিধি ছাড়িয়ে একটি স্থায়ী ও সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করা জরুরি।
জাপানের কারিগরি মানদণ্ড পূরণে একটি গতিশীল উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ-জাপান মানবসম্পদ উন্নয়ন বিশেষ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব এই সফরের শীর্ষ এজেন্ডা হওয়া যুক্তিযুক্ত। প্রস্তাবিত এই বিশেষ অঞ্চলটি কেবল একটি গতানুগতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হবে না; এটি হবে আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতিদান, বিশেষায়িত ভাষাশিক্ষা ও সরাসরি আন্তর্জাতিক নিয়োগদাতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এক সর্বাধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম।
জাপানের কর্মসংস্কৃতি বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি শৃঙ্খলানির্ভর। সেখানে পেশাগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সময়ানুবর্তিতা, দলগত কাজের মানসিকতা, কঠোর শিল্পনিরাপত্তা এবং প্রমিত পরিচালনা পদ্ধতি মেনে চলাকে মৌলিক পূর্বশর্ত ধরা হয়। তাই এই প্ল্যাটফর্মের পাঠ্যক্রমে জাপানি কর্মসংস্কৃতির প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে জাপানি কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে যৌথ পাঠ্যক্রম ও প্রাক-নিয়োগ ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা করতে হবে।
এ উদ্যোগের পরিচালন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর নিয়মভিত্তিক আর্থিক ও প্রশাসনিক নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা দরকার। প্রতি বছর কতজন কর্মী আন্তর্জাতিক সনদ পেলেন, সরাসরি কতজনের কর্মসংস্থান হলো এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের স্থায়িত্বের হার বা রিটেনশন রেট কেমন তা নিয়মিত জনসমক্ষে প্রকাশ করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। প্রশিক্ষণোত্তর এই প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা যেমন একদিকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সুনিশ্চিত করবে, তেমনি কর্মীদের অভিবাসন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত ও শোষণের ঝুঁকিহীন করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ প্রেরণে প্রধান বাধা হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ দৌরাত্ম্য, মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং তথ্যের অস্পষ্টতা। অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও দালালচক্রের শোষণে অনেক সময় অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দক্ষ কর্মীরাও ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে চরম অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েন। জাপানের শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রটিকে শুরুতেই এই ক্ষতিকর চক্র থেকে মুক্ত রাখতে হবে। এ উদ্দেশ্যে জাপানি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং নিবন্ধিত কারিগরি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ গড়ে তোলা অপরিহার্য।
অভিবাসন প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা আনতে একটি খাতভিত্তিক বাধ্যতামূলক খরচ কাঠামো বাস্তবায়ন করা জরুরি। যেখানে ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা সনদায়ন, চিকিৎসা পরীক্ষা, ভিসা ফি এবং বিমানভাড়াসহ সমস্ত লেনদেনের স্বচ্ছ রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে। এর পাশাপাশি, এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ক সহযোগিতা চুক্তির আলোকে জাপানি কর্মীদের সমতুল্য আইনি অধিকার, নারী-পুরুষের সমান সুযোগ ও সমমজুরি, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং গর্ভাবস্থায় নারী কর্মীদের প্রতি যেকোনো প্রকার বৈষম্যহীনতার নীতি বাস্তবে কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
প্রাক-অভিবাসন পর্বে দ্বিভাষিক চুক্তিপত্র প্রদান এবং দূতাবাসের মাধ্যমে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ চুক্তিতে অভিযোগ নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও প্রাক-নির্ধারিত আইনি প্রতিকার অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে যেন আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীরা কোনো অবস্থাতেই আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা হারিয়ে অরক্ষিত হয়ে না পড়েন। অভিবাসনের এই প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে বিদেশে অর্জিত বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতাকে স্বদেশের টেকসই শিল্পায়নে কাজে লাগানোর পথ উন্মুক্ত হবে।
বিদেশে অর্জিত জ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে কেবল ব্যক্তিগত উপার্জনে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পখাতের রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত করাই দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি ও শ্রম-অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। জাপানে কর্মরত বাংলাদেশি প্রকৌশলী, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তিবিদরা যে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা ও শিল্প নিরাপত্তা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবেন তা জাতীয় অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘স্কিল-লিঙ্কেজ প্রোগ্রাম’ প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। জাপান ফেরত পেশাজীবীদের দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া কিংবা দেশীয় কারখানায় উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর নেতৃত্বে নিয়ে আসার মাধ্যমে এই ‘স্কিল-লিঙ্কোজ’ কার্যকর করা সম্ভব।
এই প্রক্রিয়ায় জাপান ফেরত দক্ষ কর্মীরা দেশীয় অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকরণ, ইলেকট্রনিকস সংযোজন ও মেকানিক্যাল শিল্পে যুক্ত হয়ে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারেন যা শেষ পর্যন্ত আমদানি নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ওষুধশিল্প, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো উচ্চ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে জাপানি যৌথ মূলধনি বিনিয়োগ ও কারিগরি প্রযুক্তি হস্তান্তরের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রযুক্তি হস্তান্তরকে কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিমাপযোগ্য সূচকের মাধ্যমে নিরূপণ করা দরকার। বিশেষ করে স্থপতি ও প্রকৌশলীদের যৌথ গবেষণা প্রকল্পের সংখ্যা, দেশীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির হার এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতার গুণগত বিকাশ দিয়ে চুক্তির প্রকৃত সাফল্য মূল্যায়ন করতে হবে। এই শিল্পমুখী প্রযুক্তিগত রূপান্তর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা ও আন্তঃসংস্থার সুদৃঢ় সমন্বিত বাস্তবায়ন।
দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনা ও স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোকে বাস্তব সুফলে রূপান্তর করতে হলে ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে কর্মী পাঠানো শুরুর নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন মূল চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, জনশক্তি ব্যুরো (বিএমইটি) এবং জাপানি অংশীদারদের কাজের সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে কাঠামোগত জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের চূড়ান্ত সাফল্য কেবল কতজন কর্মী পাঠানো গেল সেই সংখ্যাভিত্তিক পরিসংখ্যানে বিচার করলে ভুল হবে। অর্জিত সাফল্য মাপতে হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর সংখ্যা, অভিবাসন ব্যয় হ্রাসের হার, কাজের স্থায়িত্ব ও বজায় রাখা মর্যাদা, প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি এবং দেশীয় শিল্পে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পরিমাপযোগ্য সূচক দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর যদি চিরাচরিত কম-দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের পুরোনো প্রথা থেকে বের হয়ে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি মানবসম্পদ সৃষ্টি, নিখুঁত কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং প্রবাসে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে স্বদেশের শিল্পায়নে কাজে লাগানোর পথ প্রশস্ত করতে পারে, তবেই তা বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের ও সুদৃঢ় পরামিতির সূচনা করবে।
অধ্যাপক ও সভাপতি, জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়