জাতীয় অর্থনীতি আন্তর্জাতিক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। সৌদি আরবে হুতিদের আরও হামলার পর দেশটিতে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা থেকে কিছু কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পরিস্থিতিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায় তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় ০০টা ৩৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৯ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১১০ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৯৭ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগের বুধবারের লেনদেনে ব্রেন্টের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছিল ৬৭ সেন্ট।
সৌদি আরবে হুতিদের নতুন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে অবস্থিত কয়েকটি কূটনৈতিক স্থাপনা থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মী ও তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি কূটনৈতিক স্থাপনা থেকে কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এ ধরনের পদক্ষেপ অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। তবে কূটনৈতিক কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে পুরো অঞ্চল থেকে সব মার্কিন কূটনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বাড়লে উৎপাদন, পরিবহন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরসংলগ্ন নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে তেলবাহী জাহাজের চলাচল, পরিবহন ব্যয় এবং বীমা খরচে প্রভাব পড়তে পারে। এসব ঝুঁকি তেলের বাজারে সরবরাহসংকটের আশঙ্কা বাড়িয়ে দামকে ঊর্ধ্বমুখী করতে পারে।
তবে তেলের দাম বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে সরবরাহ ইতিমধ্যে কমে গেছে। প্রকৃত সরবরাহ পরিস্থিতি, উৎপাদনকারী দেশগুলোর সিদ্ধান্ত, বৈশ্বিক চাহিদা এবং বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাও দামের গতিপথ নির্ধারণ করে।
দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম উচ্চপর্যায়ে থাকলে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্পের উৎপাদন ব্যয় এবং পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ার ঝুঁকি থাকে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম কতটা পরিবর্তিত হবে, তা নির্ভর করবে আমদানিমূল্য, বিনিময় হার, সরকারি মূল্যনীতি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়ের ওপর।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তাই এখন শুধু আঞ্চলিক সংকটের বিষয় নয়; আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ