বিশ্ব অর্থনীতিতে অপ্রতিরোধ্য উদীয়মান পরাশক্তিরা কে? (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: গত দুই দশকে বলা হয়েছিল পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্য শেষ হয়ে বিশ্ব শাসন করবে উদীয়মান পরাশক্তিরা। কিন্তু বাস্তবতা কী বলছে? আইএমএফের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের ইঞ্জিন জার্মানি থেকে শুরু করে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান ও চীন— সবাই যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্যবধান মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে কার দাপট বাড়ছে?

২০০১ সালে যখন ব্রিকস (BRICS) ধারণার জন্ম হয়, তখন ভাবা হয়েছিল চীন খুব দ্রুত আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে। ২০২১ সালে চীনের অর্থনৈতিক আকার যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় রেকর্ড ৭৬.৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

 

কিন্তু কঠোর মহামারি নিয়ন্ত্রণ নীতি, আবাসন খাতের গভীর মন্দা এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রযুক্তি অবরোধের কারণে চীনের জিডিপি এখন কমে মার্কিন অর্থনীতির প্রায় ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

অনেক বিশ্লেষক বলছেন, আমরা হয়তো ইতোমধ্যে 'পিক চায়না' পার করে ফেলেছি। তবে ইতিবাচক দিক হলো, মাথাপিছু আয়ের বিচারে চীন মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়িয়ে সফলভাবে উচ্চ-আয়ের দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে।

ব্রিকসের অন্যান্য দেশগুলোর চিত্রও বেশ অমিল। ভারত বিশ্ব অর্থনীতিতে আকারের দিক দিয়ে দ্রুত ওপরে উঠে সেরা পাঁচের মধ্যে জায়গা করে নিলেও, দেশটির মাথাপিছু জীবনমানের অগ্রগতি এখনও বেশ ধীরগতির।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ও কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া কোনোমতে নিজের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে।

আর ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা? গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দেশগুলো ক্রমেই তাদের বৈশ্বিক হিস্যা হারিয়ে পুরোপুরি ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদে’ আটকে পড়েছে।

শুধু উদীয়মান বাজারই নয়, ঐতিহ্যবাহী উন্নত অর্থনীতিগুলোর অবস্থাও বেশ করুণ।

ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানি দুর্বল ইউরো, জ্বালানি সংকট এবং সেমিকন্ডাক্টর ও অটোমোবাইল শিল্পে প্রতিযোগিতা হারিয়ে ২০০৮ সালের ২৬ শতাংশ থেকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬.৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

জাপানের ক্ষেত্রে এই পতন আরও দীর্ঘমেয়াদি— নব্বইয়ের দশকে যারা মার্কিন অর্থনীতির ৭৪ শতাংশ ছিল, তারা এখন মাত্র ১৩.৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে।

একই পরিণতি ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্যের; দেশটির মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে তলানিতে পৌঁছেছে।

২০১৬ সালের আগ পর্যন্ত মনে হচ্ছিল উন্নত জি-৭ জোটের সাথে ব্রিকসের ব্যবধান মুছে যাবে। কিন্তু গত এক দশকে বাস্তবতা হলো— কেউ এগোতে পারেনি, বরং সবাই পিছিয়ে পড়েছে।

এর মধ্যেও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও ডলারের শক্তির ওপর ভর করে বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ রেখে একাই এগিয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব অর্থনীতির এই সমীকরণ পরিবর্তনের দৌড়ে আপনার দেশ কতটা প্রস্তুত?

চীন কি আর আমেরিকাকে টপকাতে পারবে না?

২০২১ সালে চীনের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের ৭৬ শতাংশে পৌঁছে ভেবেছিল খুব দ্রুত তারা বিশ্বসেরা হবে। কিন্তু রিয়েল এস্টেট সংকট আর মার্কিন বাণিজ্য অবরোধে সেই ব্যবধান উল্টো বেড়ে চীন এখন ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে! বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের এক নম্বর হওয়ার আগেই হয়তো চীনের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির যুগ শেষ হয়ে গেছে। আপনার কী মনে হয়— চীন কি পারবে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যেতে?

জাপান ও জার্মানির ঐতিহাসিক ধস!

৯০-এর দশকে জাপানের অর্থনীতি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ৭৪ শতাংশ, আজ তা কমে মাত্র ১৩.৫ শতাংশ! অন্যদিকে ইউরোপের পরাশক্তি জার্মানি জ্বালানি সংকট আর প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়ে হারিয়েছে তাদের আধিপত্য। বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন উন্নত ইউরোপ বা এশিয়া নয়, একাই অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে আমেরিকা। গ্লোবাল অর্থনীতির এই বড় পালাবদল নিয়ে আপনার মতামত কী?  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি