জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে আসন্ন পঞ্চম কনস্যুলার সংলাপে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ফয়সালকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে কনস্যুলার সংলাপ হতে যাচ্ছে। জানা গেছে, বৈঠকটি নভেম্বরের শুরুতে আয়োজন করতে চায় ভারত। বাংলাদেশ এর আগে অক্টোবরের শেষদিকে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে ঢাকায় মহাপরিচালক পর্যায়ে এ সংলাপ হবে। এতে ভারতে অবস্থানরত রাজনীতিবিদদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি তুলবে বাংলাদেশ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। একই বছরের ডিসেম্বরে তাঁকে ফেরত চেয়ে ভারতকে কূটনৈতিক নোট পাঠায় ঢাকা। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর আবারও তাঁকে ফেরত চাওয়া হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের বিষয়ে দেশটির আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, তা যাচাই করা হবে।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিদের হস্তান্তরের বিধান রয়েছে এতে। তবে কিছু রাজনৈতিক অপরাধ চুক্তির আওতামুক্ত। হত্যা, হত্যায় প্ররোচনা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগকে সাধারণত রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
যেসব বিষয়ে আলোচনা হবে
২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে প্রথম কনস্যুলার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসে, নয়াদিল্লিতে।
আসন্ন সংলাপে সীমান্ত, ভারত থেকে বাংলাদেশিদের পুশ-ইন, ভিসা, আটক নাগরিকদের প্রত্যাবাসন, জেলেদের মুক্তি, পারস্পরিক আইনি সহায়তা এবং প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা হবে। ২০২৩ সালে মেয়াদ শেষ হওয়া সংশোধিত ভ্রমণ চুক্তির নবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে। বর্তমানে ছয় মাস পরপর চুক্তিটির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত থেকে পুশ-ইনের ঘটনাগুলোও তুলে ধরা হবে। ভারতের দাবি, আটক বাংলাদেশিদের তালিকা দেওয়া হলেও ঢাকা সবাইকে ফিরিয়ে নেয়নি। তবে বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা জানান, তালিকায় একই নাম একাধিকবার থাকা এবং পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে ১ হাজার ৪৪৮ বাংলাদেশি সাজা ভোগ করছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের কারাগারে সাজা শেষ করা ২৫ ভারতীয় নাগরিককে ফেরত নিতে চায় নয়াদিল্লি। এ ছাড়া বাংলাদেশে সাজা ভোগ করা ১২১ ভারতীয় নাগরিকের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে কনস্যুলার সুবিধা চাওয়া হয়েছে।
জেলেদের প্রত্যাবাসনও ভারতের অগ্রাধিকার। এ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বাংলাদেশের কাছে একটি খসড়া প্রটোকল প্রস্তাব করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের এক কর্মকর্তা জানান, সমুদ্রে সীমান্ত চিহ্নিত করা কঠিন হওয়ায় জেলেরা অনেক সময় ভুল করে অন্য দেশের জলসীমায় ঢুকে পড়েন। তাঁদের দ্রুত ফেরত পাঠানো মানবিক ও জীবিকার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।
—জা.অর্থনীতি/আরএস