হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ইভা মেরি সেইন্ট আর নেই

বিনোদন ডেস্ক: হলিউডের ১৯৪০ ও ৫০-এর দশকের সোনালী যুগের অস্কারজয়ী কিংবদন্তী অভিনেত্রী ইভা মেরি সেইন্ট ১০২ বছর বয়সে মারা গেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের বাসভবনে মঙ্গলবার বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের একজন মুখপাত্র।

ছয় দশক ধরে ছড়ানো তাঁর বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবন জুড়ে রয়েছে বিশ্ব চলচ্চিত্র ইতিহাসের একাধিক মাইলফলক। ইভা মেরি সেইন্ট শেষ জীবিত কিংবদন্তিদের মধ্যেও অন্যতম ছিলেন।

১৯২৪ সালে নিউ জার্সিতে এক কোয়াকার পরিবারে জন্ম নেওয়া ইভা মেরি ক্যারিয়ারের শুরুতে রেডিও এবং টেলিভিশনে কাজ করেন। ১৯৪৯ সালে লাইফ’ ম্যাগাজিনে তাঁর সংগ্রাম নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে লেখা হয়, ‘ইভা মেরি সেইন্ট নামটি হয়তো একদিন ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে উঠবে’ ১৯৫০-এর দশকের শুরুর দিকে ব্রডওয়ের মঞ্চ ও টেলিভিশনে দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নজর কাড়েন।

পরিচালক এলিয়া কাজান ইভা মেরিকে ব্রডওয়ের একটি নাটক থেকে খুঁজে পান এবং মারলন ব্র্যান্ডোর বিপরীতে অডিশন দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। মারলন ব্র্যান্ডোর বিপরীতে অভিনীত ‘অন দ্য ওয়াটারফ্রন্ট’ ছবির মাধ্যমেই বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। একই চলচ্চিত্রে ইডি ডয়েল চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের সুবাদে ১৯৫৫ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতে নেন তিনি।

এরপর ইভা মেরিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বব হোপ, এলিজাবেথ টেলর ও গ্রেগরি পেকদের মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। ১৯৫৯ সালে আলফ্রেড হিচককের ক্লাসিক স্পাই থ্রিলার ‘নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট’-এ ক্যারি গ্র্যান্টের বিপরীতে অভিনয় করে অমর হয়ে আছেন তিনি। ১৯৬০-এর দশকে ‘এক্সোডাস’ ও ‘দ্য স্যান্ডপাইপার’-এর মতো প্রশংসিত ছবিতে কাজ করলেও পরবর্তীতে ছোট পরিবারকে সময় দিতে কাজের পরিমাণ কমিয়ে দেন। ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে বড় পর্দায় উপস্থিতি কমে গেলেও তিনি নিয়মিত ছিলেন টেলিভিশন ও মিনি-সিরিজে।

১৯৯০ সালে ‘পিপল লাইক আস’ মিনি-সিরিজের জন্য তিনি এমি পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৬ সালে সুপারম্যান সিরিজের ‘সুপারম্যান রিটার্নস’ ছবিতে সুপারম্যানের পালক মাতা মার্থা কেন্টের চরিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মনেও জায়গা করে নেন। ১৯৫১ সালে জেফ্রি হেইডেনকে বিয়ে করার পর দীর্ঘকাল সুখের সংসার করেছেন। এর আগে সঙ্গী জেফ্রি হেইডেন মারা যান ২০১৬ সালে।

জা. অর্থনীতি/এআর/আরএস