অনলাইন ডেস্ক: সরকারের কোষাগার থেকে বেরিয়েছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। উদ্দেশ্য ছিল-সংকটে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন দেওয়া। কিন্তু সেই টাকা ফেরত আসার সময় দেখা গেল, প্রায় ৬৮৭ কোটি টাকার মধ্যে ফিরেছে মাত্র ৩৭ লাখ! বেক্সিমকোসহ ৯ প্রতিষ্ঠানের ৭০০ কোটির ঋণ নিয়ে বিপাকে সরকার।
শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে ১০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সুদমুক্ত ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল সরকার। এর মধ্যে একাই বেক্সিমকো ফ্যাশন নিয়েছে প্রায় ৫৮৫ কোটি টাকা। কিন্তু বেক্সিমকোসহ ৯ প্রতিষ্ঠান এখনো ঋণ পরিশোধ করেনি। কোনো কোনো ঋণের মেয়াদ পার হয়েছে দুই বছরও।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন কারখানায় বেতন বকেয়া পড়লে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়। এরপর শ্রম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অর্থ বিভাগ ও কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে এসব ঋণ দেওয়া হয়।
তবে এখন পর্যন্ত পুরো ঋণ পরিশোধ করেছে শুধু ইয়োলো অ্যাপারেলস- ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২০০ টাকা।
বারবার তাগাদা দিয়েও টাকা না পাওয়ায় এখন ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। প্রয়োজনে জমি, কারখানা ও যন্ত্রপাতি বিক্রি করেও টাকা আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে। পলাতক মালিকদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু এতদিনেও কেন আদায় হলো না এই বিপুল অর্থ?
শ্রম সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঋণ ফেরতের জন্য জোরালো কোনো ডকুমেন্ট রাখা হয়নি। শুধু একটি কোম্পানির কাছ থেকে চেক নেওয়া হলেও টাকা আদায় করা যায়নি। একাধিক বৈঠক হলেও হয়নি কোনো সিদ্ধান্ত।
অর্থ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায় , শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধে ”বেক্সিমকো ফ্যাশনকে দুই দফায় ৫৮৪ কোটি ৯৯ লাখ ৮৭ হাজার ৩৮১ টাকা সুদমুক্ত ঋণ” দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ৫৯ কোটি ৫৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৮১ টাকা এবং ২০২৫ সালের মার্চে আরও ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
প্রথম দফার ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ২১ মে, দ্বিতীয় দফার ৬ সেপ্টেম্বর। কিন্তু কোনো টাকাই পরিশোধ করেনি কোম্পানিটি।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় তহবিলের মহাপরিচালক মো. আব্দুছ সামাদ আল আজাদ জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে বেক্সিমকোসহ কয়েকটি কোম্পানিকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বেক্সিমকো ফ্যাশন কোম্পানিকে কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে প্রায় ৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেও তাদের টাকা দেওয়া হয়েছিল।’
দুই-একটি কোম্পানি কিছু টাকা ফেরত দিলেও ”বেক্সিমকো ঋণের কোনো টাকাই ফেরত দেয়নি” বলে জানান তিনি।
বেক্সিমকো ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও বেশিরভাগই ঋণ পরিশোধ করেনি। বার্ডস গ্রুপকে ১৯ কোটি, টিএনজেড গ্রুপকে ২৮ কোটি, ডার্ড গ্রুপকে ১৩ কোটি, নায়াগ্রা টেক্সটাইলসকে ১৮ কোটি এবং মাহমুদ জিন্সকে ২১ কোটি টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ঋণ পরিশোধ হয়নি।
এ ছাড়া রোয়ার ফ্যাশনকে ১ কোটি ২৩ লাখ, গোল্ডস্টার গার্মেন্টস ও অ্যাপারেল চেইন বিডিকে ১ কোটি করে ঋণ দেওয়া হয়। এসব ঋণও পরিশোধ হয়নি।
তবে ব্যতিক্রম ইয়োলো অ্যাপারেলস । প্রতিষ্ঠানটি নেওয়া ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২০০ টাকা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে।
শ্রমিকের পাশে দাঁড়াতে সরকার যে অর্থ দিয়েছিল, সেই অর্থই এখন সরকারের পাওনা। বছর পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরেনি। এবার মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সরকার কতটা অর্থ উদ্ধার করতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি