বালু-পাথর ব্যবসায়ী থেকে সফল কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মো. মঈন উদ্দিন মিলন, কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট)

পড়াশোনায় মাধ্যমিক না পেরানো এক যুবক মনিরুজ্জামান। চাল-চলন আর কথাবার্তায় স্থানীয়দের মতে সে যেন এক ডিগ্রি পাশ ছেলে। তার কর্ম, দক্ষতা, চেষ্টা সাধনায় একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

উপজেলার রহমতনগর কালীবাড়ী গ্রামের মরহুম আব্দুস সালাম মেম্বারের ছেলে মনিরুজ্জামান। তিনি ছিলেন একজন বালু-পাথর ব্যবসায়ী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকার একসময় বালু-পাথর উত্তোলন নিষেধ করে। সাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন খোঁজে নেমে পড়েন কৃষি প্রযুক্তির ডোরে।

অনুসন্ধানে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সূর্যমুখী উৎপাদনে মনিরুজ্জামানের আর্থিক সফলতার গল্প উঠে এসেছে দেশের জাতীয় বেশকয়েকটি গণমাধ্যমে। 

কথা হয় সেই পরিশ্রমী মনিরুজ্জামান এর সাথে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নে অবস্হিত আহমদাবাদ বালুচর ও রাধানগর গ্রামের মধ্যবর্তী সবুজের সমারোহে নাবিল এগ্রো ফার্ম প্রতিষ্ঠানে।

দীর্ঘ আলাপচারিতায় তিনি জানান, ২০১৮ সালের দিকে মাত্র ৫ বিঘা জমি ক্রয়ে মিশন শুরু। প্রথমে ফার্ম, লাউ, ঝিঙা, ধনিয়া দিয়ে শুরু করে বছর দুই পরেই ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা প্রকল্প। তৎকালীন কৃষি অফিসার আব্দুল মতিনের পাওয়ার টিলার, পানি সরবরাহ ব্যবস্হা, রাইস প্লান্টার প্রদানে তাকে উদ্যোগী হতে বেশ সাহস যোগায়।

মনিরুজ্জামান এবার ৩০ বিঘা জমিতে নতুন করে মাছ চাষ, গরুর ফার্ম, কবুতর, ভার্মিং কম্পোজ সার, কয়েক প্রজাতির সবজি প্রকল্প যুক্ত করে ৮/১০ জন শ্রমিক ব্যবহারে আর্থিক বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকার আয়ের স্বপ্ন দেখছেন।

তিনি আরও বলেন, যান্ত্রিকীকরণের সহায়তায় কৃষিতে বেশ সফলতা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ধৈর্য সাহসিকতা আর সরকারি পরামর্শে যে কেউ একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে পারবে। তিনি সিলেটের যুবসমাজকে এ ধরনের কৃষি প্রযুক্তিতে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। 

সরকারের প্রতি মনিরুজ্জামানের দাবি, খাদ্যশস্য উৎপাদন যুদ্ধের মতো। সেজন্য কৃষকদের পণ্যের নায্যমূল্যে ক্রয় এবং কৃষিকাজে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতে ব্যাপক সরকারি সহায়তার জানান। 

উপজেলা প্রশাসন কোম্পানীগঞ্জ কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সফল একজন উদ্যোক্তার খেতাবে পুরস্কৃত হওয়ার গৌরব পেয়েছেন বলে ও জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার রাজিবুল হাসান বলেন, কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামানের নাবিল এগ্রো ফার্ম মাঝে মধ্যে পরিদর্শন করি। যতটুকু পরামর্শ সহযোগিতা চাওয়া হয়, আমরা করে থাকি। ইতোমধ্যে জৈব সার, মাশুরুম উৎপাদনে আমরা সহযোগিতা পরামর্শ দিয়েছি।

কৃষি অফিসার রাজিবুল হাসান মনিরুজ্জামানকে একজন অগ্রগামী কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।  

—জা. অর্থনীতি/এনজে