ঐতিহ্য ধরে রেখেছে দুশো বছরের পুরনো বঙ্কবাবুর বাড়ির দুর্গোৎসব
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সিলেট প্রতিনিধি: কালের বিবর্তনে বদলে গেছে অনেক কিছু। পরিবর্তিত হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রা, হারিয়ে গেছে অতীতের নানা রীতি ও ঐতিহ্য। তবে সময়ের এই পরিবর্তনের মধ্যেও নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রেখেছে সিলেটের দুই শতাধিক বছরের পুরনো বঙ্কবাবুর বাড়ির পারিবারিক দুর্গাপূজা। দীর্ঘদিনের এই আয়োজন ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক বন্ধন ও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

সারাদেশের ন্যায় সিলেট নগরীর কুয়ারপারস্থ ঐতিহ্যবাহী বঙ্কবাবুর বাড়িতে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২২০তম শারদীয় দুর্গাপূজা। পারিবারিক অর্থায়নে আয়োজিত এ দুর্গোৎসব সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ উৎসবে আনন্দ উপভোগ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই শতাধিক বছরের পুরনো এই পূজাকে ঘিরে ইতিহাস ও পূর্বপুরুষদের স্মৃতি জড়িত রয়েছে। বংশপরম্পরায় চলে আসা এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অতীতের ধর্মীয় রীতিনীতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মণ্ডপে সার্বজনীন পূজার পাশাপাশি পারিবারিক পূজারও রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, স্বাতন্ত্র্য ও আবেগ। বঙ্কবাবুর বাড়ির পারিবারিক দুর্গাপূজা সেই প্রাচীন ধারার একটি উদাহরণ। দীর্ঘ সময় ধরে এমন আয়োজন টিকে থাকা স্থানীয় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুসন্ধানেরও সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

এখানকার পারিবারিক দুর্গাপূজার বিশেষত্ব হলো, এখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সম্পর্কও নিবিড় হয়। পূর্বপুরুষদের অনুসৃত রীতিনীতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে পারিবারিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এ কারণে প্রাচীন পারিবারিক পূজাগুলো কেবল ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণেরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে।

বাড়ির বাসিন্দা বিশ্বজিৎ লাল দাস জানান, দুই শতাধিক বছরেরও বেশি পুরনো বঙ্কবাবুর বাড়ির পারিবারিক দুর্গাপূজা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ও পূর্বপুরুষদের স্মৃতি বহনকারী একটি আয়োজন। ১৮০৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এ পারিবারিক দুর্গোৎসব আজ অবধি নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

তিনি জানান, এ বাড়ির বাসিন্দা ভজগোবিন্দ দাসের হাতে শুরু হওয়া এ আয়োজন বর্তমানে অষ্টম প্রজন্মের তিন পরিবারের হাতে পরিচালিত হচ্ছে। সব ধরনের প্রস্তুতি শেষে আজ থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে পূজা-অর্চনা আর দেবী বন্দনা, যা বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি