হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের বালুপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ২৪৬টি পরিবারের বাসিন্দারা চরম ভোলাভালা ও দুর্ভোগ কাটাতে রাজপথে নেমেছেন। প্রকল্প এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণ, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাসহ নানা মৌলিক দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন আশ্রয়ণবাসী।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে খয়েরবাড়ী বালুপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় একযোগে এই কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী সাধারণ বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান, ফেরদৌসী আরা, মনজিলা বেগম ও রামপ্রসাদসহ আরও অনেকে।
বক্তারা জানান, উপজেলার ৫ নম্বর খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বালুপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২৪৬টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও অবকাঠামোগত মৌলিক সুবিধা থেকে একেবারেই বঞ্চিত। খয়েরবাড়ী বাজারগামী মূল পাকা সড়ক থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা মাটির সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের চরম অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে রিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন নিয়ে যাতায়াতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আশ্রয়ণের অধিকাংশ মানুষই দিনমজুর ও ভ্যান-রিকশাচালক। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার বেহাল দশার কারণে তারা অনেক সময় যানবাহন নিয়ে বের হতে পারেন না, যার ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। এর পাশাপাশি সঠিক জলনিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে প্রকল্পের ভেতরেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। কাদা ও পচা পানিতে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধির সাথে সাথে ছড়িয়ে পড়ছে নানা পানিবাহিত রোগ।
মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুততম সময়ে প্রকল্প এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কবরস্থান নির্মাণের জোরালো দাবি জানান। একইসাথে প্রকল্পসংলগ্ন সরকারি অনাবাদি জমিগুলো তাদের চাষাবাদের উপযোগী করা এবং কর্মহীন তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানান। ফুলবাড়ী পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডের ভোটার হয়েও নাগরিক সুবিধায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন তারা।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান জানান, সমস্যা সমাধানের আকুল আবেদন জানিয়ে এর আগেও একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে ১ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দ্রুত পাকাকরণ, পার্শ্ববর্তী নদীর সাথে সংযোগ রেখে ড্রেন নির্মাণ এবং শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামো নিশ্চিতের স্পষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি