পাবনা প্রতিনিধি: পাবনায় ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে পাবনা জেলা পরিষদের সামনের প্রধান সড়কে এলাকাবাসী ও নিহত শিশুর সহপাঠীদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে একটি ক্ষুব্ধ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পাবনা জজ কোর্ট এলাকা ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলেই গিয়ে শেষ হয়।
মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেওয়া সর্বস্তরের এলাকাবাসী এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা হাতজোড় করে শিশু কলি হত্যার দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের ফাঁসির জোর দাবি জানান। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কামরুন্নাহার কলির মতো একটি নিষ্পাপ শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। দ্রুততম সময়ে বিচার কাজ শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে রাজপথে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"
মামলার প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর মূল অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন স্বীকার করেছে যে, কলিকে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের ঘরে তুলে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। এরপর অপরাধ ঢাকতে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মোস্তফা ও ইয়াছিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কুলুনিয়া গ্রামের শিশু কামরুন্নাহার কলি। স্বজনেরা দীর্ঘ সন্ধান চালিয়েও কোনো খোঁজ না পাওয়ায় নিখোঁজের সাত দিন পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে নিজ বাড়ির পাশের একটি নির্জন ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি ক্ষতবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। নিহতের পরিবার ও সহপাঠীদের দাবি, বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
