সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া জমজ দুই ভাই আরিফিন ও আশিকিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ ঘটনায় তাদের সঙ্গে আসা আবির নামে আরও এক বন্ধু পানিতে তলিয়ে গিয়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তাকে উদ্ধারে নদীতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আরিফিন ও আশিকিন সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস এলাকার মো. ফারুকের জমজ ছেলে। তারা উভয়েই মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অপরদিকে নিখোঁজ আবির একই এলাকার আব্দুল আলীনের ছেলে এবং সে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় এই শিক্ষার্থীরা। পরে তারা চার বন্ধু মিলে ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে এসে নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে পানির প্রবল স্রোতে ও গভীরতায় আরিফিন, আশিকিন ও আবির নিখোঁজ হয়ে পড়ে, তবে সাথে থাকা অপর বন্ধুটি কোনো মতে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করে। তল্লাশির প্রায় চার ঘণ্টা পর নদী থেকে দুই জমজ ভাই আরিফিন ও আশিকিনের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বন্ধু আবিরের সন্ধান মেলেনি।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ডুবুরি দল টানা উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থী আবিরকে খুঁজে বের করতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মাহবুব আলম ও সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, মর্মান্তিক খবরটি পাওয়ার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত নদীর চিহ্নিত পয়েন্টগুলোতে অনুসন্ধান অভিযান চলবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি