খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. আজমুল হোসেনকে চুরির অপবাদে পিটিয়ে ও চারতলার ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগে হরিণটানা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) চারজন শিক্ষার্থীকে এজাহারনামীয় আসামি করার পাশাপাশি আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন। শনিবার রাতে নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর হরিণটানা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
নিহত আজমুল হোসেন (২২) চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুবউদ্দিনের ছেলে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি ছাত্রাবাসে (মেস) থেকে পড়াশোনা করতেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীত পাশে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে পোশাক ও ভাত চুরির কথিত অভিযোগ তুলে আজমুলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও চুল কেটে চারতলার ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসারত অবস্থায় শুক্রবার শেষ রাতে তার মৃত্যু হয়।
আজমুলের স্বজনরা মারাত্মক অভিযোগ তুলে জানান, নির্যাতন চালানোর সময় ঘাতকেরা আজমুলের মোবাইল দিয়ে তার পরিবারের কাছে ফোন করে অবিলম্বে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ আপাতত এ চাঁদাবাজি ও ফোনে টাকা দাবির অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করছে।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, "নিহতের বাবার মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মেসে অন্যের জামাকাপড় ও আসবাব ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরেই এ বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছিল। ঘটনাটির মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি