কেন থমকে যাচ্ছে রেলপথের পণ্য পরিবহন
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহনে দেখা দিয়েছে বড় সংকট। ইঞ্জিন সংকটে কমছে কনটেইনার ট্রেন, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব আদায়ে। রেলে পণ্য পরিবহনে বড় ধস!  

রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, ‘লোকোমোটিভের স্বল্পতার কারণেই চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে কনটেইনার ট্রেন আগের মতো পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

শুধু গত জুলাইয়ে বিল অব এন্ট্রি কমেছে ৩৩ দশমিক ০৯ শতাংশ, কনটেইনার পরিবহন ৪৭ দশমিক ০৯ শতাংশ, আমদানি পণ্য ৫৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৩১ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং রাজস্ব আদায় কমেছে ৩১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। কনটেইনার পরিবহন কমেছে ১ হাজার ৫৭৯টি থেকে ৮৩৬টিতে। পণ্য আমদানি ২৬ হাজার ৪১০ টন থেকে নেমে হয়েছে ১ হাজার ৯৪২ টন। শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৬৪০ কোটি থেকে ৪৩৯ কোটি টাকা এবং রাজস্ব ২৯৩ কোটি ৮৩ লাখ থেকে ২০০ কোটি ২৬ লাখ টাকা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত তিন বছরে রেলের কনটেইনার পরিবহন থেকে আয় কমেছে ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০ হাজার ৭১৯টি ওয়াগনে ৭ লাখ ৯০ হাজার ৫৩৬ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করে আয় হয়েছিল ১১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬১৮ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে হয় ৬৩ হাজার ১০০টি, পণ্য পরিবহন ৭ লাখ ৭ হাজার ২৩ মেট্রিক টন, আয় ৭৬ কোটি ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২৮৭ টাকা। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৪ হাজার ৫৬৯টিতে, পণ্য পরিবহন ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৭ মেট্রিক টনে এবং আয় দাঁড়ায় ৮৭ কোটি ৬৭ লাখ ৪ হাজার ১০৫ টাকা। 

এ বিষয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পণ্য পরিবহনের জন্য প্রতিদিন ১৫টি মিটারগেজ ইঞ্জিনের চাহিদা রয়েছে। সেখানে আমরা তিন-চারটি ইঞ্জিনও দিতে পারি না। এ জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ওয়াগন পরিবহন অনেকটা কমে গেছে। এতে কনটেইনার পরিবহন থেকে আয়ও কমেছে।

কমলাপুর আইসিডির জন্য মাসে প্রয়োজন ৯০টি কনটেইনার ট্রেন। কিন্তু মে, জুন ও জুলাইয়ে পাওয়া গেছে যথাক্রমে ৩২টি, ৪৪টি ও ৩৬টি-অর্থাৎ দিনে গড়ে মাত্র ১ দশমিক ২২টি ট্রেন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় কমলাপুর আইসিডির কনটেইনার হ্যান্ডলিংও কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ।

রেলের ইঞ্জিন সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের বিকল্প নৌ ও সড়কপথে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, তৈরি হচ্ছে কনটেইনার জট এবং কমছে সরকারের রাজস্ব।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কমলাপুর আইসিডিতে প্রতিদিন অন্তত ৩টি বা মাসে ৯০টি কনটেইনার ট্রেন নিয়মিত সরবরাহ প্রয়োজন।

ইঞ্জিন সংকট কাটিয়ে রেলপথে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক না হলে, এর প্রভাব পড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারের রাজস্ব-দুই ক্ষেত্রেই।  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি