নবাবগঞ্জে ২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় হাজারো মানুষের দুর্ভোগ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের মূল হাইওয়ে সড়ক সংলগ্ন প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দীর্ঘ দিনেও পাকা না হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাদুরিও-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়ক সংলগ্ন ভাদুরিও-দাদনপুর হাইওয়ে সড়ক থেকে নামাকাঠাল, পশ্চিম ফতেপুর, ফরেস্ট অফিস, অফিসপাড়া, হরিণাপুর (ফরেস্ট) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিবিরপুর গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার জন্য শত শত শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন কাদা পেরিয়ে ভাদুরিও স্কুল অ্যান্ড কলেজে যেতে হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা হাঁটুসমান কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে চরম বেহাল দশায় রূপ নেয়। ফলে রিকশা, সিএনজি, অটো-ভ্যান বা অটোরিকশার মতো যানবাহনগুলো আর চলাচল করতে পারে না, এমনকি সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে যাতায়াত করাও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। এর ফলে স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয় চার্জার অটোরিকশাচালক মো. হারুন রশীদ আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের গ্রামের অনেকেই গাড়ি চালিয়ে সংসার চালান। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা জমার কারণে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।" শিক্ষার্থী রেজওয়ান কবির জানায়, কাদা-পানি জমে থাকার কারণে বর্ষায় নিয়মিত ও সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের নিকট একাধিকবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের এই দীর্ঘশ্বাস ও দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি