জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা বিস্মিত করেছে অনেক পর্যবেক্ষককে। কয়েক দিনের মধ্যেই ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স নামে পরিচিত হুথিবিরোধী জোটের নিয়ন্ত্রণে থাকা বড় একটি এলাকা দখলে নেওয়ার দাবি উঠেছে। কিছু হিসাবে, কৌশলগত উপকূলরেখার প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক বছরের মধ্যে এটি হুথিদের সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্যগুলোর একটি। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ, সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানের পরও গোষ্ঠীটি যে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে আছে, নতুন এই অগ্রযাত্রা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হুথিরা ইরানের সমর্থন পেয়ে থাকে। তবে তাদের কেবল ইরানের ‘পুতুল’ হিসেবে দেখাকে সরলীকরণ মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের জন্য হুথিদের গুরুত্ব বেড়েছে বলে মনে করছেন তারা।
কারণ, হুথিদের নিয়ন্ত্রণের বিস্তার লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেবের কাছাকাছি এলাকায় তাদের প্রভাব বাড়াতে পারে। এই পথ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাজা যুদ্ধের সময়ও হুথিরা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযানের মাধ্যমে লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ বা উপকূলীয় অবস্থানগুলোতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হলে জাহাজ চলাচলে চাপ বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
তবে হুথিরা নির্বিচারে হামলা চালাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে তারা।
এদিকে সৌদি আরবও উদ্বিগ্ন! হরমুজ প্রণালি নিয়ে সংকট তৈরি হলে তেল রপ্তানির বিকল্প রুট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সৌদি পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনও হুথিদের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইয়েমেনে সরাসরি সামরিকভাবে জড়াবে কি না। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপের মধ্যে নতুন একটি ফ্রন্ট খোলা রাজনৈতিকভাবেও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ফলে ইয়েমেনে হুথিদের অগ্রযাত্রা এখন শুধু স্থানীয় গৃহযুদ্ধের বিষয় নয়। এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, সৌদি নিরাপত্তা, লোহিত সাগরের নৌপথ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ- সবকিছুর সঙ্গেই যুক্ত হয়ে পড়ছে।
আর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষকে, যারা দীর্ঘ ১২ বছরের যুদ্ধের পরও নতুন সংঘাতের আশঙ্কা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।
ইয়েমেনের উপকূলে হুথিদের এই দ্রুত অগ্রযাত্রা কি বদলে দিতে পারে ইরান যুদ্ধের সমীকরণ? মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ উপকূলের প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছে। এর ফলে হরমুজের পাশাপাশি লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। প্রশ্ন হলো, ইরানের মিত্র হুথিদের এই শক্তি কি এবার সরাসরি প্রভাব ফেলবে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে?
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। কিছু হিসাবে, কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ১৩০ কিলোমিটার কৌশলগত উপকূল তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর ফলে বাব আল-মান্দেবের কাছে হুথিদের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পথ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য পরিচালিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের অবস্থান শক্ত হলে ইরান সরাসরি হরমুজের পাশাপাশি লোহিত সাগরের প্রবেশপথেও চাপ তৈরির সুযোগ পেতে পারে। ফলে ইরান সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি