অনিশ্চয়তায় কাটছে জামদানি কারিগরদের জীবন
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: তাঁতের ঠকঠক শব্দে শুরু হয় ভোর, আর সেই ছন্দে কেটে যায় জীবনের শেষ প্রহরগুলো। বয়স সত্তরের কোঠায় পৌঁছালেও, শরীরে শক্তি না থাকলেও আর চোখে বয়সের ছাপ স্পষ্ট হলেও প্রতিদিন সকালে তাঁতের সামনে এসে বসেন নবী হোসেন।

নিপুণ হাতে একটি একটি সুতা ধরে বুনে যান ঐতিহ্যবাহী জামদানি। শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে যেন বোনা হয়ে চলে তার দীর্ঘ জীবনের গল্প।

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া গ্রামের প্রবীণ এই কারিগরের জীবনের প্রায় পুরোটাই কেটেছে তাঁতের পাশে। ছোটবেলায় বাবা-চাচাদের হাত ধরে এই পেশায় হাতেখড়ি। একসময় যা ছিল জীবিকার একমাত্র অবলম্বন, তা আজ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

নবী হোসেন জানান, একটি জামদানি শাড়ি তৈরি করতে কখনো কয়েক দিন, আবার কখনো কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যায়। তবে হাড়ভাঙা সেই শ্রমের তুলনায় আয়ের অঙ্কটা বড্ড সামান্য।

যশোরে আমনের উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম এবং সংসারের খরচের চাপ থাকলেও থেমে যাননি নবী হোসেন। কারণ এই তাঁত তার কাছে শুধু আয়ের মাধ্যম নয়—এটি তার জীবনের সঙ্গী, শৈশবের স্মৃতি এবং বাপ-দাদার রেখে যাওয়া ঐতিহ্য। জামদানি বুননের প্রতিটি সুতোয় তিনি ভুলে থাকেন জীবনের সব কষ্ট।

এই কারিগর বলেন, জন্মের পর থেকেই জামদানি দেখছি। বাপ-দাদারা করে আসছে। তাদের কাছে আমরা শিখেছি। এক সময় এই কাজ করে মানুষ বাড়িঘর করেছে। কিন্তু বর্তমান বাজারে অনুযায়ী এই কাজ করে চলাই দায়।

নবী হোসেন একা নন; রূপগঞ্জের শত শত কারিগরের নিপুণ হাতের স্পর্শেই আজও বেঁচে আছে বিশ্বখ্যাত জামদানি শিল্প।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্ক নিয়েই চলছে পাঠদান

তবে এই ঐতিহ্যের পেছনের কারিগরদের জীবন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। ন্যায্য পারিশ্রমিক ও আর্থিক সহযোগিতার অভাবে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বয়স বাড়লেও পেশা বদল বা তাঁত ছাড়ার সহজ কোনো সুযোগ তাদের সামনে নেই।

প্রতি শুক্রবার ভোররাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত রূপগঞ্জে জামদানির হাট বসে। সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক থাকলেও কারিগরদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা মেলে কমই। তাই এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন কারিগরদের শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।

—জা.অর্থনীতি/এনজে