সুলতানি আমলের প্রাচীন গায়েবি মসজিদ ভাঙার অপচেষ্টা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের ওসমানীনগরে সুলতানি আমলে নির্মিত আনুমানিক ৭০০ থেকে ৯০০ বছরের প্রাচীন এক গম্বুজবিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী ‘গায়েবি মসজিদ’ ভেঙে ফেলার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঐতিহাসিক এই স্থাপনা ধ্বংসের খবরে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। এ প্রেক্ষাপটে ‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট’-এর উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের নাগরিক প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের তাজপুর-বালাগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত প্রাচীন এই মসজিদটিকে ঘিরে রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষকদের মতে, এটি সিলেট জেলায় বর্তমানে টিকে থাকা সুলতানি আমলের একমাত্র ঐতিহাসিক মসজিদ। জনশ্রুতি রয়েছে, বহুকাল আগে জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় মাটির নিচ থেকে প্রাকৃতিকভাবে এটি আবিষ্কৃত হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে এটি 'গায়েবি মসজিদ' হিসেবে পরিচিতি পায়।

পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, বিশিষ্ট পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলন সংগঠক আব্দুল করিম কিম, সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট মনির হেলাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী দীপন এবং প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আসিফ আজহার।

পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, প্রত্নসম্পদের গুরুত্ব উপলব্ধি না করে কতিপয় ব্যক্তি স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের অজুহাতে প্রাচীন এই নকশা ও স্থাপত্য ধ্বংসের পাঁচতারা করছেন। ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকার পাশাপাশি ওয়াকফ প্রশাসনের তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এখনো এটিকে 'সংরক্ষিত পুরাকীর্তি' হিসেবে ঘোষণা বা তালিকাভুক্ত করেনি।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, "সঠিক সংরক্ষণের অভাবে ইতোমধ্যে ঐতিহ্যবাহী মেহরাব ও দেয়ালে আধুনিক টাইলস বসিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিয়মের মারাত্মক লঙ্ঘন করা হয়েছে। সিলেট অঞ্চলের ইতিহাসের অনন্য এ স্মারক বিনাশের দায় কেউ এড়াতে পারে না। যেকোনো মূল্যে এই ঐতিহাসিক আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে।" ট্রাস্টের পক্ষ থেকে স্থাপনাটি সুরক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের অধিবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি