ফ্রি সেলাই প্রশিক্ষণের প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া গ্রামে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধশতাধিক নারীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে সর্বস্বান্ত স্থানীয় নারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি নিজেদের লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বাউরা এলাকার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ভাদুরিয়া গ্রামের নারীদের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে সরকারি সনদের পাশাপাশি উপহারস্বরূপ সেলাই মেশিন প্রদান করা হবে।

বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের কথা শুনে গ্রামের অন্তত ২৫-৩০ জন নারী উৎসাহিত হয়ে এতে অংশ নেন। তবে শুরুতে বিনামূল্যে বলা হলেও কৌশলে বিভিন্ন অজুহাতে ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া শুরু করে চক্রটি। ভর্তির নামে প্রথম দিন জনপ্রতি ১০০ টাকা, দ্বিতীয় দিনে কাঁচি ও ফিতা ক্রয়ের কথা বলে ৩৫০ টাকা এবং প্রশিক্ষণের পঞ্চম দিনে সার্টিফিকেট ও মেশিনের আনুষঙ্গিক খরচের কথা বলে আরও ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীরা জানান, টাকা পকেটে পুরে প্রশিক্ষণের ষষ্ঠ দিনে ওই দুই ব্যক্তি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। তাদের দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি নিজেদের ভুল ও ভুয়া পরিচয় দিয়ে গ্রামের সরল নারীদের বিশ্বাস অর্জন করেছিল।

হতাশায় ভেঙে পড়া ভুক্তভোগীরা জানান, সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় একটু স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় কষ্টার্জিত টাকা তুলে দিয়েছিলেন প্রতারকদের হাতে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল জানান, এ ধরনের ভুঁইফোড় সংগঠন কিংবা অচেনা ব্যক্তির কোনো প্রলোভনে হুট করে টাকা না দিয়ে আগে প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা উচিত। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশকে বিষয়টি দ্রুত অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি