সাংবাদিক হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ২
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় দীর্ঘ সাড়ে ১০ বছর পর রায় ঘোষণা করেছে আদালত। রায়ে এক আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত মাদক কারবারি খালাস পাওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এই রায় প্রদান করেন। 

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত এই তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছে। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে পরিচিত মাদক কারবারি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদীকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন সাংবাদিক উৎস রহমান। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় রাস্তার পাশের একটি গাছে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার নৃশংস লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের মা নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় এবং আদালত ৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক শুনানি শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের মা নূরজাহান বেগম জানান, তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং ন্যায্য বিচারের আশায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, "তদন্ত ও অভিযোগ সূত্রে স্পষ্ট ছিল যে মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে সাংবাদিক উৎসকে হত্যা করিয়েছিলেন। অথচ হত্যাকাণ্ডের সেই মাস্টারমাইন্ডকেই আদালত খালাস দিয়েছেন। এ ধরনের অপরাধে মূল পরিকল্পনাকারী পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ এবং খুব শীঘ্রই উচ্চ আদালতে রায় চ্যালেঞ্জ করে আপিল দায়ের করব।"  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি