নিজস্ব প্রতিবেদক: বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান তৈরি না করে হুট করে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যান উচ্ছেদ করা হলে সারাদেশে কঠোর আন্দোলনে নামার কড়া আল্টিমেটাম দিয়েছে ‘রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজি বাইক সংগ্রাম পরিষদ’।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের প্রায় ৬০ লাখ মানুষের রুজি-রুটি বন্ধ করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা রাজপথেই প্রতিরোধ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, তীব্র বেকারত্বের এই সময়ে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করে ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধ করা হলে হাজার হাজার পরিবার পথে বসবে। সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পরিকল্পনার সমালোচনা করে তারা জানান, নির্দিষ্ট কিছু কারখানা থেকে রিকশা কেনা কিংবা সোলার চার্জিংয়ের অবাস্তব শর্ত জুড়ে দিয়ে মূলত একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করার পাঁয়তারা চলছে। একই সাথে ফিটনেস সনদের নামে ট্রাফিক পুলিশের সই বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তটি সড়কে চাঁদাবাজি ও পুলিশি হয়রানি বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে।
দুর্ঘটনা এড়াতে ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে উচ্ছেদের বদলে আধুনিকায়নের জোর দাবি জানান নেতারা। তারা বলেন, বিআরটিএ-র অধীনে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করে নিবন্ধন ও লাইসেন্স দিতে হবে, মহাসড়কগুলোতে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন নির্মাণ করতে হবে এবং বর্তমান রিকশাগুলোকে সরকারি নকশা অনুযায়ী পরিবর্তনের জন্য চালকদের অন্তত ২ বছরের সময় দিতে হবে।
দাবি আদায়ে ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বরজুড়ে রাজপথের কড়া কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগ্রাম পরিষদ। আগামী সেপ্টেম্বরের ১ম সপ্তাহে ঢাকাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হবে। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর সারাদেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় চালক-মালিকদের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। দাবি না মানলে চালক-মালিকেরা জীবন ও জীবিকার তাগিদে লাগাতার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ